স্থানীয় টেক্সটাইল মিলের তৈরি কাপড় ও আনুষঙ্গিক কাঁচামালের ব্যবহার বাড়ায় দেশে তৈরি পোশাক খাতে মূল্য সংযোজন (ভ্যালু অ্যাডিশন) বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি কাঁচামাল আমদানির খরচ কমে আসায় পোশাক রপ্তানি থেকে অর্জিত আয়ের বড় একটি অংশ দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার। এর মধ্যে কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৩৮৬ কোটি ৯৭ লাখ ডলার বা মোট আয়ের ৩৮.৩২ শতাংশ। ফলে এই প্রান্তিকে মূল্য সংযোজনের হার দাঁড়িয়েছে ৬১.৬৮ শতাংশে। গত বছরের একই প্রান্তিকে কাঁচামাল আমদানিতে খরচ হয়েছিল ৪৩.২২ শতাংশ এবং মূল্য সংযোজন ছিল ৫৬.৭৮ শতাংশ।

পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা জানান, আগে জিপার, বোতাম বা বিশেষায়িত ফেব্রিকসের জন্য ব্যাপকভাবে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হতো। বর্তমানে এসব কাঁচামালের বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। তা ছাড়া বিদেশি ক্রেতারাও সরবরাহ সময় (লিড টাইম) কমাতে দেশীয় কাপড়ের ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

বিজিএমইএ-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক জানান, নতুন নতুন টেক্সটাইল কারখানা গড়ে ওঠায় বিশেষ কিছু ফেব্রিক ছাড়া বেশিরভাগ কাঁচামাল এখন স্থানীয় বাজার থেকেই সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমে সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, বিশ্ববাজারে তুলা ও সুতার দাম তুলনামূলক কম থাকা এবং ওভেন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়াও মূল্য সংযোজন বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। ২০২৩ সাল থেকে পোশাক খাতে মূল্য সংযোজনের হার সাধারণত ৫৬ থেকে ৬১ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করলেও স্থানীয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের বিকাশে এই সূচক আরও ইতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com