শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে টিয়ার শেলের আঘাত ও লাঠিচার্জে অন্তত ১০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে আশুলিয়ার জিরাবো পুকুরপাড় এলাকায় লুসাকা গ্রুপের কারখানার সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, লুসাকা গ্রুপের প্রোডাকশন ম্যানেজার মেহেদী হোসেনের বিরুদ্ধে এক নারী শ্রমিককে হয়রানির অভিযোগ ওঠে। শ্রমিকরা তাঁর বরখাস্তের দাবি জানালে গত ৪ আগস্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে চাকরিচ্যুত করার আশ্বাস দেয়। তবে ওই দিন বিকেলেই তিনি পুনরায় কারখানায় যোগ দিলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে গত ৬ আগস্ট একই ভবনে অবস্থিত লুসাকা গ্রুপের ‘বেক নিট লিমিটেড’-এর ৫৮ জন এবং ‘তাম্মাম ডিজাইন লিমিটেড’-এর ৮২ জনসহ মোট ১৪০ জন শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ।
বরখাস্ত হওয়া শ্রমিক ফরহাদ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বরখাস্ত ১৪০ জন শ্রমিক কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় সাধারণ শ্রমিকরাও কাজের যোগ না দিয়ে তাঁদের দাবির প্রতি একাত্মতা জানান। একপর্যায়ে পুলিশ এসে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ১০ জন নারী শ্রমিক আহত হন।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সমস্যার প্রশাসনিক সমাধান না করে কারখানা কর্তৃপক্ষ পুলিশ দিয়ে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে।
তবে হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে লুসাকা গ্রুপের এইচআর অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার মেজর (অব.) মনিরুজ্জামান জানান, নারী হয়রানির বিষয়ে দাপ্তরিকভাবে কোনো অভিযোগ আসেনি। গত ৪ আগস্ট কিছু শ্রমিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটালে কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছিল। কারখানা খোলার পর বরখাস্তকৃতরা আবার বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছে।
সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বরখাস্ত হওয়া শ্রমিকরা সকালে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। তারা আশপাশের কারখানায় ইটপাটকেল ছোড়ে এবং অন্য শ্রমিকদের কাজে যোগদানে বাধা দেয়।
পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিতে গেলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

