তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে নরসিংদীর বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ডাইং ও প্রিন্টিং কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ না থাকায় কেমিক্যাল ও পানিতে ভেজা প্রায় এক কোটি গজ কাপড় পচে নষ্ট হচ্ছে। শিল্প মালিকদের তথ্য মতে, গত এক মাসে কেবল কাপড় নষ্ট হয়েই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

নরসিংদীর মাধবদীসহ বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় প্রায় দুই শতাধিক ডাইং ও প্রিন্টিং কারখানায় কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে ডাইং প্রক্রিয়ার মাঝামাঝি সময়ে বয়লার ও মেশিন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। কেমিক্যাল মেশানো ভেজা কাপড় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত করতে না পারায় তা কারখানার ভেতরেই পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং সম্পূর্ণ ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

কারখানা মালিকরা জানান, উৎপাদনে স্থবিরতার কারণে একদিকে বিদেশে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করতে পেরে স্থানীয় বাজারেও বড় ধরনের জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া কারখানা বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতন, ব্যাংক ঋণ এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল পরিশোধের চিন্তায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং মিলস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, প্রতিটি কারখানায় দুই থেকে পাঁচ লাখ গজ পর্যন্ত ভেজা কাপড় পচে নষ্ট হচ্ছে। সংকট দ্রুত সমাধান না হলে জেলার টেক্সটাইল খাত স্থায়ী ধসের মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে নরসিংদী তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সার কারখানায় সরবরাহের পর উদ্বৃত্ত গ্যাস কারখানা ও অন্যান্য খাতে বিতরণ করায় শিল্প এলাকায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com