দেশের পোশাক রপ্তানি খাতের সার্বিক আয় বাড়লেও উচ্চমূল্যের বা অ্যাডভান্সড ক্যাটাগরির পণ্যে প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ হয়নি। চলতি অর্থবছরে এ খাতে মাত্র ১ দশমিক ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা থেকে নতুন যুক্ত হয়েছে ২১ মিলিয়ন ডলার। এর ফলে উচ্চমূল্যের পোশাক খাতের মোট আয় ১ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও মোট রপ্তানিতে এর অংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৯৮ শতাংশে, যা আগে ছিল ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি পরিস্থিতিআউটওয়্যার খাতের জ্যাকেট ও কোট থেকে ৩৩ মিলিয়ন ডলার বেশি আয় হয়ে মোট রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৯৯১ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন ডলারে, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এছাড়া বিশেষ কার্যকারিতাসম্পন্ন টেকনিক্যাল ওয়্যারে ১৮ মিলিয়ন ডলার আয় বেড়ে মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪৬ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলারে এবং প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ।
তবে বেশ কিছু উচ্চমূল্যের পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর মধ্যে নারীদের ড্রেস ক্যাটাগরিতে ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১২৪ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দার কারণে স্পোর্টসওয়্যার ও অ্যাক্টিভওয়্যারের আয় ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে নেমেছে ৮০ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলারে।
সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে ফরমাল স্যুট ও এনসেম্বলে, যেখানে ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ রপ্তানি কমে আয় হয়েছে মাত্র ৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন ডলার। বহুমুখীকরণের তাগিদ বিশেষজ্ঞদেরবিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, প্রথম প্রান্তিকের এই তথ্য স্পষ্ট করে যে, বাংলাদেশ মূলত প্রচলিত ও সাধারণ বা বেসিক পণ্যের ওপরই বেশি নির্ভর করে চলেছে।
সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও পণ্যের সমীকরণ বেশি মাত্রায় বেসিক পোশাকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং উচ্চমূল্যের পোশাক বাজার হারাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে শুধু কম দামি ট্রাউজার, সোয়েটার বা টি-শার্টের ওপর নির্ভরতা কমানো উচিত। পোশাক খাতের মুনাফা টিকিয়ে রাখতে অবিলম্বে উচ্চমূল্যের অ্যাডভান্সড ক্যাটাগরি ও বৈচিত্র্যময় পোশাক উৎপাদনে জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।


