জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বিদ্যমান অবস্থা থেকে বাড়িয়ে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ), জাপানি ক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এবং সরকারের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের ফলে এ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর উপদেষ্টা কাজী সারওয়ার হাবিব।
টোকিওর এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে জাপানে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। তবে বিশ্বমানের পোশাক তৈরির সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জাপানি বাজারে বাংলাদেশ এখনো কাঙ্ক্ষিত অবস্থান অর্জন করতে পারেনি। সেই ঘাটতি পূরণে বিজিএমইএ ইতোমধ্যেই ‘জাপান ডেস্ক’ চালুর পাশাপাশি ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের প্রায় ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকায় এ বাজার সম্প্রসারণের পথ সহজ হবে।
তবে এই বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে কিছু প্রশাসনিক ও কৌশলগত বাধা দূর করা আবশ্যক। জাপানি ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী পণ্যের মান ও নকশায় বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি সরবরাহের সময়সীমা মেনে চলা জরুরি। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও প্রতিনিধিদের যাতায়াত সহজ করতে দীর্ঘসূত্রী ভিসা জটিলতা নিরসন করা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
পোশাক খাতের বাইরে জাপানি ভাষা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। জাপানি ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন করতে পারলে দেশের তরুণদের জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
সরকার ও বেসরকারি খাত যৌথভাবে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের এই নতুন দিগন্ত বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।


