উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে নতুন অর্থবছর শুরু করলেও প্রথম মাসেই হোঁচট খেয়েছে দেশের রপ্তানি খাত। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪.৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৯০ শতাংশ কম। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সংকট ও বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তার প্রভাবেই অর্থ বছরের শুরুতে এই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি তৈরি হয়েছে।
##
তৈরি পোশাক খাতেও নেতিবাচক ধারা
দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতেও জুলাই মাসে প্রবৃদ্ধি কমেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় এসেছে ৩.৮৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের (৩.৯৬ বিলিয়ন ডলার) চেয়ে ১.৯২ শতাংশ কম।
পোশাক খাতের উপখাতগুলোর মধ্যে:
নিটওয়্যারে রপ্তানি আয় হয়েছে ১.৮৪ বিলিয়ন ডলার (০.৯০% হ্রাস)। ওভেন পোশাকে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১.৫৪ বিলিয়ন ডলারে (৩.১৬% হ্রাস)।
কেন এই মন্দাভাব?
অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক একাধিক সংকটকে এই পতনের জন্য দায়ী করছেন অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকরা। দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট, বিদ্যুৎ ঘাটতি এবং বিশ্ববাজারে ক্রয়াদেশের ধীরগতির কারণে কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, বিশ্ব অর্থনীতি এখনো চাপের মুখে রয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হচ্ছে, যা প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে পণ্যের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও এক মাসে প্রায় ৩.৮৯ বিলিয়ন ডলার অর্জন মন্দ নয়। তবে কাঁচামাল ব্যবহারের ঘোষণাপত্র (ইউডি) কমে যাওয়ায় আগামী মাসগুলোতেও চাপ থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দ্রুত জ্বালানি নিরাপত্তা ও নীতি-সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৫ বিলিয়ন ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মোট আয় হয়েছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার। তা সত্ত্বেও চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার আরো ৮.৪০ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে মোট ৬৩.৪০ বিলিয়ন ডলারের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, টানা দুই অর্থবছর ধরে রপ্তানিতে এই ধারাবাহিক পতন উদ্বেগজনক। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারের নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমছে। ফলে নতুন অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করা বেশ কঠিন হবে।
চামড়া ও পাটে উন্নতি, কৃষিতে পতন
জুলাই মাসে পোশাক ও কৃষি খাতে পতন হলেও কয়েকটি খাতে আশাব্যঞ্জক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে: * **চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য:** আয় হয়েছে ১৩১ মিলিয়ন ডলার (প্রবৃদ্ধি ২.৮১%)। এর মধ্যে চামড়ার জুতা থেকে এসেছে ৭৮ মিলিয়ন ডলার।
পাট ও পাটজাত পণ্য:
রেকর্ড ৫৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে আয় পৌঁছেছে ৮৫ মিলিয়ন ডলারে। এছাড়াও হোম টেক্সটাইল আয় ১৫.৩৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ মিলিয়ন ডলারে।

