ছোটবেলা থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম রেজা। পলাশী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় স্টার মার্কসহ কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর দেশের অন্যতম প্রতিযোগিতাপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষার বেড়া ডিঙিয়ে পড়ার সুযোগ পান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। তবে পছন্দের বিভাগ না পাওয়ায় তিনি ভর্তি হন তৎকালীন কলেজ অব টেক্সটাইল টেকনোলজিতে, যা বর্তমানে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) নামে পরিচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি শুধু পড়াশোনাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; ক্যাম্পাসের নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতেও ছিলেন সোচ্চার। শিল্পাঞ্চলঘেরা ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রভাব ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতা তাকে ভাবিয়ে তোলে। সেই বাস্তবতা থেকেই সহপাঠী এবং সিনিয়র-জুনিয়রদের নিয়ে গড়ে তোলেন সংগঠিত প্রতিরোধধর্মী একটি প্ল্যাটফর্ম। ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল টেক্সটাইল ক্যাম্পাসকে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখা এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করা। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্র সংসদের জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নেতৃত্বগুণের স্বাক্ষর রাখেন তিনি।
শিক্ষাজীবন শেষে ডাইং সেকশনের প্রোডাকশন অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন রেজাউল করিম রেজা। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের পেশাগত অভিজ্ঞতায় কর্মদক্ষতা, পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে ধাপে ধাপে উঠে আসেন শিল্পখাতের শীর্ষ পর্যায়ে। বর্তমানে তিনি আহসান গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০১২ সালে জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের মাসিক রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। তাঁর নেতৃত্বে সেটি বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। নিটিং, ডাইং, গার্মেন্টস, মার্কেটিং ও সামগ্রিক প্রজেক্ট ব্যবস্থাপনায় তাঁর অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে পদোন্নতি পেয়ে গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হন তিনি।
রেজাউল করিম রেজা মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও টেক্সটাইল প্রকৌশলীরা এখনও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব পান না। তাই বস্ত্র খাত সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের দাবি “টেক্সটাইল ক্যাডার” বাস্তবায়নের বিষয়টিও তিনি জোরালোভাবে তুলে ধরছেন।
শুধু নীতিগত পরিবর্তন নয়, শিল্পকারখানায় টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের কর্মপরিবেশ, দায়িত্বের মানদণ্ড, চাকরির নিরাপত্তা ও বেতন কাঠামো নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আসছেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের অধিকাংশ গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল কারখানায় দক্ষ টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা গেলে শিল্পের উৎপাদনশীলতা যেমন বাড়বে, তেমনি সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থানও।
পেশাগত অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে এখন তিনি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। সেমিনার, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যেতে চান তিনি।
তাঁর ভাষায়, “টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের সক্ষমতা আছে, দক্ষতা আছে; কিন্তু প্রয়োজন সঠিক প্ল্যাটফর্ম ও নীতিগত সমর্থন।” সেই জায়গাটিই তৈরি করতে চান ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম রেজা।
আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের সর্ববৃহৎ সংগঠন আইটিইটির নির্বাচন। এই নির্বাচনে ফোরাম মনোনীত প্যানেল থেকে “যুগ্ম মহাসচিব” পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম রেজা। নির্বাচিত হলে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের অধিকার, পেশাগত উন্নয়ন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়েই কাজ করতে চান তিনি।


