উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ, কারখানার দামি যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, আর আর্থিক অবস্থা চরম সংকটে। অথচ এমন একটি বন্ধ কোম্পানির শেয়ারের দামই গত ছয় মাসে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। পুঁজিবাজারে আলোচিত এই কোম্পানিটির নাম তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে বস্ত্র খাতের ‘জেড’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানির প্রতি শেয়ারের দাম ছিল ১ টাকা ৭০ পয়সা। সম্প্রতি তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৯০ পয়সায়। অর্থাৎ মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে শেয়ারটির দাম বেড়েছে প্রায় ১০০ শতাংশ। তবে কোম্পানির ব্যবসায়িক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি ছাড়া এই দর বৃদ্ধি বাজারসংশ্লিষ্টদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এর আগে ডিএসইর একটি প্রতিনিধি দল তুং হাই নিটিংয়ের কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানায়, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সেখানকার যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলোতে মরিচা ও ময়লার আস্তরণ পড়েছে এবং কারখানায় কোনো ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম সচল নেই।সংকটাপন্ন আর্থিক অবস্থাকোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক লোকসানের মধ্যে রয়েছে।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুং হাই নিটিংয়ের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ও শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দুটিই ঋণাত্মক। বর্তমানে কোম্পানিটির এনএভিপিএস মাইনাস ৬ টাকা ৩৫ পয়সা এবং পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬ কোটি টাকায়। টানা লোকসানের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কয়েক বছর ধরে কোনো লভ্যাংশ পাচ্ছেন না।
২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটি ২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ১০৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানির মোট শেয়ারসংখ্যা ১০ কোটি ৬৬ লাখের বেশি। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ০৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং বাকি ৬২ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।
দর বৃদ্ধির নেপথ্যে কী?
উৎপাদন বন্ধ ও ঋণাত্মক সম্পদমূল্যের এই কোম্পানির দর বাড়ার পেছনে কোনো দৃশ্যমান যৌক্তিক কারণ দেখা যাচ্ছে না। এমনকি কোম্পানির পক্ষ থেকেও কোনো ইতিবাচক মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ করা হয়নি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মৌলিক ভিত্তি দুর্বল থাকা সত্ত্বেও শেয়ারের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কোনো কারসাজ চক্র থাকতে পারে। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ের শেয়ার লেনদেন ও শেয়ারধারণের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তুং হাই নিটিংয়ের মতো বন্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

