নিজস্ব প্রতিবেদক:
পোশাক শিল্পে উদ্ভাবন, ডেনিমের বৈচিত্র্যকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট অ্যাপারেল ডিজাইনের সম্ভাবনা তুলে ধরতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ফ্রম কনসেপ্ট টু ক্রিয়েশন: ডেনিম ডাইভারসিফিকেশন অ্যান্ড স্মার্ট অ্যাপারেল ইনোভেশন এক্সিবিশন’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনী। দেশের অন্যতম বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি (এএমএমটি) এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর উত্তরার সোনারগাঁও জনপথে অবস্থিত ক্রিয়েটিভ দ্য আর্ট গ্যালারিতে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এটি বিভাগের দ্বিতীয় প্রদর্শনী।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণামুখী কাজ এবং শিল্পমুখী দক্ষতার প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কালচারাল সেকশনের থার্ড সেক্রেটারি শিয়া দাওজিং, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ-ই-আলম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজির ডিন অধ্যাপক শিশির কুমার ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রেজিস্ট্রার ড. পাড় মশিয়ূর রহমান, বিভিন্ন বিভাগের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইঞ্জিনিয়ার রিয়াসাদ বিন কবির। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিভাগের কো-অর্ডিনেটর ও সহকারী অধ্যাপক রাজিব দাস।
প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত ডেনিম পণ্যের বহুমুখীকরণ, টেকসই পণ্য উন্নয়ন, স্মার্ট অ্যাপারেল প্রযুক্তি এবং আধুনিক ফ্যাশন উদ্ভাবনের বিভিন্ন প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন ধারণা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সৃজনশীল ডিজাইনের সমন্বয় তুলে ধরা হয়।
ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ফারজানা মিতা বলেন, এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাপারেল উন্নয়নের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির প্রসারে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আয়োজকরা জানান, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন এবং স্মার্ট অ্যাপারেল প্রযুক্তির বিকাশে শিক্ষার্থী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরিই এ প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য।

