আর্থিক সংকট ও নানা সমস্যার কারণে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার ‘ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড’ নামের একটি পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে হঠাৎ করেই কাজ হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কারখানার প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক ও কর্মচারী।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান কারখানাটি বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১৬ জুন থেকে মালিকপক্ষ প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।
ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্তশ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য আইনি পাওনা পরিশোধের লক্ষ্যে গত রবিবার (২১ জুন) গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর কার্যালয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় আপস-মীমাংসা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন।
বৈঠকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ), শ্রম অধিদপ্তর, বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ এবং কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে আগামী **২৭ জুলাই** শ্রমিকদের সব পাওনা একসঙ্গে পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শ্রমিকরা যা পাবেন:
বকেয়া বেতন:
এপ্রিল মাসের বাকি ১৫ দিন এবং মে মাসের ১৮ দিনের বকেয়া বেতন।
নোটিশ পে:
চাকরিচ্যুতির কারণে ৩০ দিনের মূল (বেসিক) বেতনের সমপরিমাণ অর্থ।
সার্ভিস বেনিফিট:
প্রতি বছর চাকরির জন্য ২০ দিন করে মূল বেতনের হারে অর্থ।
অন্যান্য সুবিধা:
প্রমাণ সাপেক্ষে মাতৃত্বকালীন সুবিধা, অর্জিত ছুটির টাকা এবং তহবিল বা রিজার্ভের জমাকৃত অর্থ।
চুক্তি নিয়ে শ্রমিক নেতাদের অসন্তোষএই চুক্তিটিকে ‘শ্রমিকবান্ধব নয়’ বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম। তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই চুক্তিতে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্য পূর্ণাঙ্গ সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে শত শত শ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, ঈদের আগে বেতন-ভাতা নিয়ে সৃষ্ট সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হলেও, মালিকপক্ষ কারখানা চালু না রেখে স্থায়ীভাবে বন্ধের পথ বেছে নিয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, মালিকপক্ষ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসন ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেছে।


