ঢাকার তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি কমে যাওয়ার পেছনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি, উচ্চ ব্যাংক সুদহার, বন্দর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়কে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি পরিচালনা পর্ষদ সভা শেষে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, আন্তর্জাতিক ও দেশীয়—উভয় ধরনের কারণেই পোশাক খাত বর্তমানে চাপের মুখে রয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কম।বিজিএমইএর মতে, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা নতুন ক্রয়াদেশ দিতে আগ্রহ হারিয়েছেন। খুচরা বিক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর কাছে অবিক্রীত পণ্যের মজুত বেড়ে যাওয়াও এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক (রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ) সংক্রান্ত নীতিগত পরিবর্তন এবং অনিশ্চয়তার কারণে ক্রেতাদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহে বিলম্ব এবং বিদেশি ক্রেতাদের বাংলাদেশ সফর কমে যাওয়ার বিষয়ও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
দেশীয় চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার ও জ্বালানি সংকট। বিজিএমইএ বলছে, অনেক কারখানা বর্তমানে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না এবং ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।অন্যদিকে এলডিসি উত্তরণকে ঘিরে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তাও ক্রেতাদের উদ্বিগ্ন করছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা না পাওয়া এবং সম্ভাব্য বাণিজ্য সুবিধা হ্রাসের আশঙ্কা রপ্তানি খাতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিএমইএ একটি নীতিপত্র প্রস্তুতের উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ, বাণিজ্য বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি।


