দেশের বস্ত্রখাতের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত ও দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গঠিত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ প্রতিবেদনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে বস্ত্রশিল্পে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা প্রদান করবে সরকার।বুধবার সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে কমিটি গঠনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি টেক্সটাইল শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি ও চলমান সংকটগুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরে।বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আলোচনায় শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, বাজারে বিদেশি সুতার ডাম্পিং এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এসব সমস্যা পর্যালোচনার গঠিত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন— অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।বৈঠকে বিটিএমএর সহ-সভাপতি ও যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম, সাবেক সভাপতি এ. মতিন চৌধুরী, সাবেক পরিচালক সৈয়দ এনায়েত কবির, ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হায়দার, বর্তমান পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ সোয়েব, বাদশা মিয়া, আমানত শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান হেলাল মিয়া এবং মুন্নু ফেব্রিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বস্ত্রখাতের সমস্যাগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অত্যন্ত ইতিবাচক মানসিকতা দেখা গেছে। সমস্যাগুলোর সমাধান ও অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠকের সময় দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, দেশে বন্ধ ও আংশিক বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব। তবে এর জন্য দেশীয় বাজারে অবৈধ ডাম্পিং বন্ধ করা জরুরি। এছাড়া গ্যাস সংকট কাটাতে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল আনাসহ বিকল্প জ্বালানির বিষয়ে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নীতি সহায়তা পেলে আগামী এক মাসের মধ্যেই বস্ত্রখাত আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

