EMMTEX SLN Textile Industry Advertisement Banner

কোরবানির ঈদ মুসলিম উম্মাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। ত্যাগ, ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধন ও মানবিকতার অনন্য এক বার্তা নিয়ে প্রতি বছর আসে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই উৎসবকে ঘিরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ (নিটার)-এর বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভাগ করে নিয়েছেন তাদের ঈদ উদযাপনের স্মৃতি, অনুভূতি ও আবেগঘন মুহূর্তগুলো।

নিটারের ১২ ব্যাচের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মানসিফ সামিন জানান, ঈদের দিনটি শুরু হয় ফজরের নামাজ ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে। মায়ের রান্না করা সেমাই খেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করেন তিনি। এরপর কোরবানি ও মাংস ভাগাভাগির ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে কাটে পুরো দিন। বিকেলে পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হওয়ার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ হয় তার ঈদের আনন্দ।

একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী গোলাম ইয়াজদানী স্বাধীন বলেন, গ্রামের ঈদের অনুভূতি এখনও তার কাছে ছোটবেলার মতোই প্রাণবন্ত। কাজিনদের সঙ্গে আড্ডা, পুকুরে একসাথে গোসল, ঈদগাহে নামাজ আদায় এবং কবর জিয়ারতের পর শুরু হয় কোরবানির প্রস্তুতি। যৌথ পরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী কুরবানির কাজে সহযোগীদের জন্য খিচুড়ি ও মাংসের আয়োজন তাদের ঈদের আনন্দকে আরও বিশেষ করে তোলে।

এছাড়াও মো. ইবনে ছাবিত আবির নিটার ১২ তম ব্যাচ

( আইপিই ) এর শিক্ষার্থী বলেন, “ঈদের সকালটা আমার ঘরের চার দেয়ালের মাঝে অ্যালার্মের শব্দে শুরু হয়েছিল। এবারের ঈদুল আযহা মূলত ইবাদত, কোরবানি এবং সামাজিকতার এক ব্যস্ত সংমিশ্রণ ছিল। খুব ভোরে ঈদের নামাজের পরপরই কোরবানির মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়, যেখানে মাংস কাটা এবং বিতরণ থেকে শুরু করে পরবর্তী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে আমরা সবাই মিলে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাই। দুপুরে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মিলেমিশে খাওয়ার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিই। এখন বিকেলে কিছুটা বিশ্রাম নিচ্ছি, এরপর ভাইবোনদের সাথে নিয়ে ঘুরতে বের হবো।”

১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারহান ফাহিন জানান, এবারের ঈদ ছিল কিছুটা ভিন্ন অভিজ্ঞতার। প্রথমবারের মতো ঢাকায় ঈদ উদযাপন করেছেন তিনি। পরিবারের কিছু সদস্যের অনুপস্থিতি ও প্রয়াত দাদুর স্মৃতি তাকে আবেগাপ্লুত করলেও ঈদের মূল শিক্ষা—ত্যাগ ও ভালোবাসার বার্তাই তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, “ঈদ মানে আমার কাছে পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের নিয়ে একসাথে থাকা।”

১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমাইয়া বিনতে রায়হান বলেন, কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর আনন্দ আলাদা। বিশেষ করে পরিবারের মেয়েদের প্রতি সবার বাড়তি স্নেহ ও আন্তরিকতা কোরবানির ঈদে আরও বেশি অনুভূত হয়। তিনি সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও আনন্দ কামনা করেন।

একই ব্যাচের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব সাদ বলেন, কোরবানির ঈদ তার কাছে দায়িত্ব ও পরিশ্রমের প্রতীক। গরু কাটা থেকে শুরু করে মাংস ঘরে তোলা পর্যন্ত সব কাজের মধ্যেও পরিবারকে পাশে পাওয়ার আনন্দই তাকে তৃপ্তি দেয়। ঢাকায় ঈদ উদযাপন করলেও পরিবারের উপস্থিতি তাকে গ্রামের অভাব অনুভব করতে দেয়নি।

ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড এপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ সিহাব খান স্বাধীন বলেন, ঈদ মানুষের মাঝে দূরত্ব কমিয়ে সবাইকে একত্রিত করে। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়, আড্ডা ও স্মৃতিময় মুহূর্তগুলোই তার কাছে ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।

১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী মাশফিক মান্নান বলেন, কোরবানির ঈদ শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি পরিবার, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার এক অনন্য উপলব্ধি। গরুর প্রতি মায়া, পরিবারের সঙ্গে ফ্যামিলি ছবি তোলা, আত্মীয়দের সঙ্গে খাবারের আয়োজন এবং গরিবদের মাঝে মাংস বিতরণের মধ্যেই তিনি খুঁজে পান ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য।

অন্যদিকে মাহাতাব হোসেন নাইফ জানান, কয়েকদিন ধরে লালন-পালন করা গরুর প্রতি এক ধরনের আবেগ তৈরি হয়েছিল তার। ঈদের নামাজ, কোরবানি, মাংস প্রস্তুত ও আত্মীয়দের মাঝে মাংস পৌঁছে দেওয়ার ব্যস্ততার মধ্য দিয়েই কাটে তার পুরো দিন।

নিটার শিক্ষার্থীদের এই অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিগুলো প্রমাণ করে, কোরবানির ঈদ শুধুমাত্র উৎসব নয়; এটি ভালোবাসা, ত্যাগ, পারিবারিক বন্ধন ও মানবিক মূল্যবোধের এক মহামিলন। ব্যস্ত নাগরিক জীবন কিংবা গ্রামের ঐতিহ্য,সবখানেই ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে মানুষে মানুষে সম্পর্কের উষ্ণতায়।

সবশেষে শিক্ষার্থীরা সবার জন্য সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে জানান, ঈদ হোক ভালোবাসা ও মানবিকতার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার এক অনন্য উপলক্ষ।ঈদ মোবারক।

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com