টানা আট মাস কমার পর দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানিতে আবারও উত্থান দেখা গেছে। সদ্য সমাপ্ত এপ্রিল মাসে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৩১৪ কোটি ৯ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) রবিবার (৩ মে) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় ছিল ২৩৯ কোটি ৩৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
এর আগে আগস্ট থেকে মার্চ পর্যন্ত টানা আট মাস পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। আগস্টে প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়ায় -৪ দশমিক ৭৬ শতাংশে। এরপর সেপ্টেম্বরে -৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ, অক্টোবরে -৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, নভেম্বরে -৫ শতাংশ, ডিসেম্বরে -১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ, জানুয়ারিতে -১ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে -১৩ দশমিক ২১ শতাংশ এবং মার্চে -১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমে আসে।
বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীর মতে, এপ্রিলের এই প্রবৃদ্ধি মূলত কিছু সাময়িক কারণে হয়েছে। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি মাস ছোট হওয়া, নির্বাচন ও ঈদের কারণে ফেব্রুয়ারি-মার্চে উৎপাদন কম ছিল। এ সময় মাত্র ৩৫ দিন কার্যক্রম চলেছে। এছাড়া গত বছরের এপ্রিল মাসে ঈদ থাকায় তখন রপ্তানি কম ছিল, যার সঙ্গে তুলনা করায় এবারের প্রবৃদ্ধি বেশি দেখাচ্ছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নয় মাসে পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ২ দশমিক ৮২ শতাংশ। এই সময়ে মোট আয় হয়েছে ৩১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এই প্রবৃদ্ধিকে স্থায়ী উন্নতি হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, মার্চ মাসে ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির কারণে উৎপাদন ও রপ্তানি কমে যায়। ফলে ওই মাসে পাঠানো সম্ভব হয়নি এমন পণ্যগুলো এপ্রিল মাসে রপ্তানি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নতুন কোনো বড় অর্ডার বা ক্রেতা বাড়েনি। তাই এপ্রিলের এই বৃদ্ধি মূলত আগের মাসের পেন্ডিং শিপমেন্টের প্রভাব।
উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, মে মাসের শেষ দিকে আবারও বড় ছুটি থাকায় উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। ফলে সামনের মাসগুলোতে রপ্তানিতে আবারও চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রপ্তানির প্রকৃত চিত্র বুঝতে হলে আগামী জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলেও মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

