Advertisement

টেক্সটাইল শিল্প বিশ্বের অন্যতম পানি-নির্ভর ও পরিবেশ-প্রভাবশালী শিল্প। এই প্রবন্ধে ফেলে দেওয়া কাপড় বা টেক্সটাইল বর্জ্যের পানি ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ এবং পুনর্ব্যবহারের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একটি কটন টি-শার্ট তৈরিতে প্রায় ২,৭০০ লিটার এবং একটি জিন্সে ৭,০০০–১০,০০০ লিটার পানি ব্যবহৃত হয়। বিশ্বে উৎপাদিত টেক্সটাইল বর্জ্যের মাত্র ১৫–২০% পুনর্ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, রিসাইকেলড ফাইবার ব্যবহারে পানি ও শক্তি ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এই প্রবন্ধে টেকসই ফ্যাশনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

ভূমিকা (Introduction): বর্তমান ফাস্ট ফ্যাশন যুগে পোশাকের ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি দ্রুত বেড়েছে ফেলে দেওয়া কাপড়ের পরিমাণ। একটি পোশাক শুধু ফ্যাশন নয়, এর পেছনে রয়েছে বিশাল পরিমাণ পানি, শক্তি ও রাসায়নিক ব্যবহারের ইতিহাস। ফলে টেক্সটাইল বর্জ্য আজ একটি বড় বৈশ্বিক পরিবেশগত সমস্যা। টেক্সটাইল শিল্পে পানি ব্যবহার টেক্সটাইল শিল্প অত্যন্ত পানি-নির্ভর। উদাহরণস্বরূপ একটি কটন টি-শার্ট → প্রায় ২,৭০০ লিটার পানি একটি ডেনিম জিন্স → প্রায় ৭,০০০–১০,০০০ লিটার পানি এই পানি মূলত তুলা চাষ, রং করা, ধোয়া এবং ফিনিশিং প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।

যদি একটি কারখানায় প্রতিদিন ১০,০০০ টি-শার্ট তৈরি হয়, তবে মোট পানি ব্যবহার হবে— ১০,০০০ × ২,৭০০ = ২৭,০০,০০,০০০ লিটার পানি এটি এক দিনে বিপুল পরিমাণ পানির ব্যবহার, যা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে। পরিবেশগত দূষণের প্রভাব টেক্সটাইল বর্জ্যে থাকা রাসায়নিক রং, ভারী ধাতু ও মাইক্রোফাইবার পানি ও মাটি দূষিত করে। অনেক ক্ষেত্রে অপরিশোধিত বর্জ্য নদী ও খালে মিশে জলজ প্রাণী ও কৃষিজমির ক্ষতি করে। বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৯০–১০০ মিলিয়ন টন টেক্সটাইল বর্জ্য তৈরি হয়, যার মাত্র ১৫–২০% পুনর্ব্যবহার করা হয়।

বাকি অংশ ল্যান্ডফিলে জমা হয় বা পোড়ানো হয়, যা বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ বাড়ায়। পুনর্ব্যবহার ও সমাধান: রিসাইকেলড ফাইবার ব্যবহার এই সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান। গবেষণায় দেখা যায়— পানি সাশ্রয়: ৫০–৭০% পর্যন্ত শক্তি ব্যবহার হ্রাস কার্বন নিঃসরণ কমে নতুন কটন ফাইবারের তুলনায় রিসাইকেলড ফাইবার অনেক কম সম্পদ ব্যবহার করে, যা পরিবেশের জন্য উপকারী। বাংলাদেশ

প্রেক্ষাপট (Discussion): বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে বিপুল পরিমাণ কাপড় বর্জ্য তৈরি হয়। যদি এই বর্জ্য সঠিকভাবে পুনর্ব্যবহার করা যায়, তবে তা শুধু পরিবেশ রক্ষা করবে না, বরং নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও সৃষ্টি করবে। আন্তর্জাতিকভাবে United Nations Environment Programme টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার (Conclusion): ফেলে দেওয়া কাপড় শুধু বর্জ্য নয়, বরং একটি মূল্যবান সম্পদ। সঠিক পুনর্ব্যবহার ও টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে পানি সাশ্রয়, দূষণ কমানো এবং পরিবেশ সুরক্ষা সম্ভব। ভবিষ্যতের টেক্সটাইল শিল্পকে অবশ্যই টেকসই ও পুনর্ব্যবহারভিত্তিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রস্তাবনা (Recommendation): টেক্সটাইল রিসাইক্লিং ব্যবস্থা উন্নত করা টেকসই ফ্যাশন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি শিল্প পর্যায়ে বর্জ্য পানি পরিশোধন বাধ্যতামূলক করা পুনর্ব্যবহারযোগ্য পোশাক ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া

গোলাম ইয়াজদানী নিটার, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com