Advertisement

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের পলিয়েস্টার ইয়ার্ন উৎপাদনে নতুন বিনিয়োগ এই ঘাটতি কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন শিল্প নেতারা।

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান বলেন, দেশে এখনো শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গড়ে ওঠেনি। এ অবস্থায় হাই-ভ্যালু পলিয়েস্টার ইয়ার্ন উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানো সময়ের দাবি। তিনি মনে করেন, টিকে গ্রুপের মতো বড় শিল্পগোষ্ঠীর উদ্যোগ অন্য উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি নীতিগত সহায়তা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করে, তাহলে আরও বিনিয়োগ আসবে। এতে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাত শক্তিশালী হবে এবং পোশাক শিল্পের সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত হবে।

উৎপাদন সক্ষমতা ও বিনিয়োগ
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এনএসইজেড)-এ তাদের বিদ্যমান কারখানাটি প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে তোলা হয়েছে। জার্মান প্রযুক্তিনির্ভর এই কারখানাটি দেশের প্রথম কন্টিনিউয়াস পলিমারাইজেশন প্ল্যান্ট, যা আমদানি বিকল্প ম্যান-মেড ফাইবার উৎপাদন করে।

বর্তমানে কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৪৬০ টন। এখানে পলিয়েস্টার ড্র টেক্সচার্ড ইয়ার্ন, ফুললি ড্রন ইয়ার্ন, পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার এবং পিইটি চিপস উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব পণ্য দিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।

দেশীয় বাজারে স্কয়ার টেক্সটাইলস, ডিবিএল গ্রুপ, ইপিলিয়ন গ্রুপ, এনভয় গ্রুপ এবং ফকির ফ্যাশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসব পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।

রপ্তানি ও কর্মসংস্থান
টিকে গ্রুপের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নতুন সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রায় ১২০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, বিদ্যমান কারখানা থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে।

তার মতে, বৈশ্বিক বাজারে তুলার বিকল্প হিসেবে ম্যান-মেড ফাইবারের চাহিদা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে পলিয়েস্টার ইয়ার্ন উৎপাদন বাড়ানো একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

বেজার সহযোগিতা অব্যাহত
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এর নির্বাহী সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) সালেহ আহমেদ বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ দেশের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। শিল্পায়নকে এগিয়ে নিতে বেজা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাবে।

বেজার তথ্য অনুযায়ী, এনএসইজেডে বর্তমানে প্রায় ১৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনে রয়েছে এবং আরও প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন। প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা এই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে দেশের অন্যতম বৃহৎ পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল হিসেবে উন্নয়ন করা হচ্ছে।

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com