দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে আরও কার্যকর নীতি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাতে এ দাবি জানানো হয়।
বৈঠকে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে পোশাক খাতের নানা চ্যালেঞ্জ এবং শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর পাশাপাশি কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিল্পখাত অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
বৈঠকে আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিল (আরএসসি)-এর কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। বিজিএমইএ সভাপতি জানান, আরএসসি মূলত ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা তদারকির জন্য গঠিত একটি সংস্থা। বেতন, ছুটি বা ট্রেড ইউনিয়নের মতো সামাজিক কমপ্লায়েন্স বিষয়গুলো এর আওতার বাইরে রাখা উচিত। এসব দায়িত্ব আরোপ করা হলে শিল্পে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ তৈরি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মালিকপক্ষের মতামত এবং দেশের বিদ্যমান আইনগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য বিজিএমইএ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি ও বন্ড নীতি সহজ করা, এফওসি ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সরলীকরণ, বন্ডেড ও নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পণ্য সরবরাহে বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং সংশ্লিষ্ট আইন দ্রুত সংশোধন।
এছাড়া রপ্তানি প্রণোদনার ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহার, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি ও পণ্য রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা দূর করার আহ্বান জানানো হয়।
বিজিএমইএ আরও প্রস্তাব দেয়, ‘আমদানি নীতি ২০২৪-২০২৭’-এর সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধনের মাধ্যমে রপ্তানি বাণিজ্য সহজ করা এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের সিআইপি মর্যাদা প্রদানের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করা।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিজিএমইএ’র উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে বলেন, দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই খাতকে শক্তিশালী করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
বৈঠকে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং পরিচালক মো. হাসিব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

