ভিয়েতনামের চেয়ে আরও পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (অটেক্সা)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রপ্তানির পরিমাণ ও পণ্যের গড় দাম (ইউনিট প্রাইস)—দুই সূচকেই এগিয়ে রয়েছে ভিয়েতনাম। এর ফলে মার্কিন বাজারে বর্তমানে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে।
অটেক্সার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি পঞ্জিকা বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) বিশ্ববাজার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক পোশাক আমদানি ৯ শতাংশের মতো কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৮৩ কোটি ডলারে। আগের বছরের একই সময়ে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার। বাজারে সামগ্রিক মন্দা থাকা সত্ত্বেও ভিয়েতনাম নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারলেও বাংলাদেশের পতন হয়েছে তুলনামূলক বেশি।
আলোচ্য সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সাড়ে ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬৬ কোটি ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪৯৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ এই সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ৩২ কোটি ডলার। অন্যদিকে, শীর্ষ স্থান ধরে রাখা ভিয়েতনাম পাঠিয়েছে ৯৩৭ কোটি ডলারের পোশাক, যা গত বছরের ৯৪৬ কোটি ডলারের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশ বা ১১ কোটি ডলার কম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৃতীয় শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ চীনের রপ্তানি একঝাঁকে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ কমে ৪৫৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের বছর ছিল ৬৯২ কোটি ডলার। অপরদিকে, অন্যান্য প্রতিযোগীদের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ৩ শতাংশ বেড়ে ২৭৪ কোটি ডলার এবং পঞ্চম স্থানে থাকা কম্বোডিয়ার রপ্তানি সাড়ে ১০ শতাংশ বেড়ে ২৬২ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা ভারতের রপ্তানি ২৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২৪৫ কোটি ডলারে।
পোশাকের দর বা ‘ইউনিট প্রাইস’-এর ক্ষেত্রে দেখা যায়, আলোচিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের গড় দাম শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ বাড়লেও বাংলাদেশের পণ্যের দর কমেছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। বিপরীতে ভিয়েতনামের পণ্যের দর কমেছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং চীনের কমেছে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের পোশাকের একক দর যথাক্রমে ১৪ ও ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশের মোট জাতীয় রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় এভাবে পিছিয়ে পড়া দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।


