ঢাকার আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের একটি কারখানার ছাদ থেকে পড়ে মো. জামাল উদ্দিন (জ্যেষ্ঠ মার্চেন্ডাইজার) নামে এক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে নরসিংহপুরে কারখানাটিতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও নিহতের পরিবারের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত জামাল উদ্দিন গাজীপুর সদর উপজেলার বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত মো. সেকান্দার আলীর ছেলে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৯টার দিকে জামাল উদ্দিনকে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ হাসপাতাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের ভাই ফখরুল হাসান বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁরা খবর পান, জামাল ভবন থেকে পড়ে মারা গেছেন। তাঁর দাবি, জামালের ছোট সন্তান রয়েছে এবং তিনি প্রতিষ্ঠিত একজন কর্মকর্তা ছিলেন। এ কারণে তাঁর আত্মহত্যার বিষয়টি পরিবারের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। এ ছাড়া কারখানা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জামালের স্ত্রী নাহার আক্তার জানান, আগের দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর স্বামী ফোন করে কর্মস্থলে ঝামেলা হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরদিন সকালেও তাঁদের কথা হয়। তখন তিনি স্বামীকে কাজে যেতে নিষেধ করেছিলেন। তবে অফিসে না গেলে তাঁকে কোনো ঘটনায় ফাঁসানো হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে জামাল কর্মস্থলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নাহার আক্তার বলেন, কারখানায় যাওয়ার পর থেকে জামাল তাঁর ফোন ধরছিলেন না। প্রায় দুই ঘণ্টা পর অন্য একজন ফোন ধরে তাঁকে জানান, জামাল অসুস্থ। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁর স্বামীর মৃত্যুর খবর দেয় এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে জানায়।

নিহতের স্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, তাঁরা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাঁদের অপমৃত্যুর মামলা করার পরামর্শ দেয়। তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়নি। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হওয়ায় পরিবারকে অপমৃত্যুর মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

ওসি জানান, কারখানার সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার দৃশ্য দেখা গেছে। ফুটেজে জামাল উদ্দিনকে ছাদের রেলিংয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় ক্যানটিনের এক কর্মচারী তাঁকে নিচে নেমে আসতে বলেন। ওই কর্মচারী তাঁর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় জামাল ছাদ থেকে পড়ে যান বলে ফুটেজে দেখা গেছে।

এর আগে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাহিম জানান, পাঁচতলা ভবন থেকে পড়ে জামাল উদ্দিনের হাত-পা ভেঙে যায়। এ ছাড়া তাঁর নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।

ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকেরা নরসিংহপুরে কারখানাটি পরিদর্শন করেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখালেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com