পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলেও তৈরি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন উদ্যোক্তারা। সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশ্বাসে আজ বুধবার কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকরা। তবে কর্মপরিবেশ না থাকলে কিংবা সহিংসতা অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিক শ্রম আইন মেনে নিজ দায়িত্বে কারখানা বন্ধ করতে পারবেন।
মঙ্গলবার রাতে পোশাক খাতের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে গঠিত নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আজ পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে ইতিবাচক বা গ্রহণযোগ্য কোনো বার্তা আসতে পারে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া বিজিএমইএর এক পরিচালক জানান, প্রথমে আন্দোলনপ্রবণ এলাকার সব কারখানা একযোগে বন্ধের প্রস্তাব থাকলেও পরবর্তীতে সরকারের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি পেয়ে সেই সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে আসেন। তিনি আশা করেন, মজুরি বোর্ডের বৈঠক থেকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বেতন বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেলে পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হবে। তবে বিশৃঙ্খলা না কমলে মালিকরা নিজ নিজ কারখানা বন্ধ রাখার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান জানান, আজ কারখানা চালু থাকবে। তবে শ্রমিকরা কাজ না করলে বা অসন্তোষ চললে সংশ্লিষ্ট মালিক শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী সাময়িক কারখানা বন্ধ রাখতে পারবেন। উল্লেখ্য, এই ধারায় কারখানা বন্ধ থাকলে শ্রমিকরা ওই দিনগুলোর কোনো মজুরি পান না।
এর আগে টানা আন্দোলনের জেরে সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শিল্পাঞ্চলগুলো স্থবির হয়ে পড়ে। সংঘর্ষের জেরে মিরপুর, গাজীপুর, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের প্রায় তিন শতাধিক কারখানা তাদের কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।অন্যদিকে, পোশাক খাতে নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের ৩৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তারা সাধারণ শ্রমিকের ছদ্মবেশে সহিংসতা উসকে দিচ্ছিল।
চলমান এই অনিশ্চয়তায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন উদ্যোক্তারা। ইতোমধ্যে অনেক আন্তর্জাতিক পোশাক ক্রেতা বায়ার তাদের পূর্বনির্ধারিত ক্রয়াদেশ ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান না হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত থেকে বড় অঙ্কের বৈদেশিক কার্যাদেশ হাতছাড়া হওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।


