ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বিক্ষোভ তীব্র রূপ নিয়েছে। এর ফলে শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক শ্রম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) হিসাব অনুযায়ী, শ্রম অসন্তোষের কারণে ঢাকা মহানগর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভার ও আশুলিয়া এলাকার ৩১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রায় ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক কাজে যোগ না দিয়ে কারখানা থেকে বেরিয়ে গেছেন।
বিজিএমইএর অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরের মিরপুর এলাকার ৬৮টি কারখানা বন্ধ রয়েছে, যার ফলে কাজ বন্ধ রেখেছেন ৫১ হাজার ৬২৫ জন শ্রমিক। গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ২২৫টি কারখানা বন্ধ করা হয়েছে, যেখানে ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক কাজ ছেড়েছেন।
এছাড়া সাভার, আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২৫টি বন্ধ রয়েছে এবং ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন শ্রমিক কর্মবিরতিতে রয়েছেন। সার্বিকভাবে তালিকায় থাকা পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের মোট ২ হাজার ১৩৪টি পোশাক কারখানার মধ্যে বর্তমানে ১ হাজার ৮১৬টি চালু রয়েছে।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে বর্তমান বেতনে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পুরুষ শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্য বন্ধ করা এবং ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার জোর দাবি জানান তারা।শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মালিকপক্ষ নিজ উদ্যোগে কারখানাগুলোয় ছুটি ঘোষণা করেছে।
যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এদিকে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার ও জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরের চন্দ্রা, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক ও ভোগড়া বাইপাসসহ সংবেদনশীল এলাকাগুলোয় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পরিচালনায় আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এ বিজিবি টহল অব্যাহত থাকবে।


