বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে পণের বৈচিত্র্য আনতে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে নন-কটন বা কৃত্রিম তন্তুর পোশাক। আন্তর্জাতিক বাজারে এ ধরনের পোশাকের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় নতুন বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ জনবল তৈরি এবং উচ্চ মূল্যের পোশাক তৈরির বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশ পোশাক খাত থেকে মোট ২ হাজার ৯৯১ কোটি ডলার (২৯.৯১ বিলিয়ন) আয় করেছে।
এর মধ্যে সুতি কাপড়ের পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ২ হাজার ৭৫ কোটি ডলার, যা মোট আয়ের ৬৯.৩ শতাংশ। অন্যদিকে কৃত্রিম বা নন-কটন পোশাক থেকে এসেছে ৯১৭ কোটি ডলার, যা মোট পোশাক রপ্তানির ৩০.৭ শতাংশ।
চলতি বছরে বিশ্ববাজারে কৃত্রিম তন্তুর পোশাক রপ্তানির ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে নন-কটন পোশাকের শেয়ার ছিল গড়ে ২৮ শতাংশের কাছাকাছি। তবে জুন মাসে প্রথমবারের মতো তা ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে ৩১.৬ শতাংশে পৌঁছায়।
পরবর্তী মাসগুলোতে এই ধারা আরও ত্বরান্বিত হয়। আগস্ট মাসে নন-কটন পোশাকের শেয়ার সর্বোচ্চ ৩৪.৬ শতাংশে ওঠে, যা সেপ্টেম্বর মাসে কিছুটা কমে ৩২.৬ শতাংশে দাঁড়ায়।
মাসভিত্তিক আয়ের হিসাবে, গত জুলাই মাসে নন-কটন পোশাক থেকে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় এসেছে—যার পরিমাণ ছিল ১৩১ কোটি (১.৩১ বিলিয়ন) ডলার। এই সংখ্যাটি রপ্তানি আয়ে নন-কটন পণ্যের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে সুস্পষ্ট করে তোলে।
তবে পোশাক খাতে এখনো সুতি পণ্যের প্রাধান্য বজায় রয়েছে। গত নয় মাসে প্রতি মাসে সুতি পোশাক থেকে রপ্তানি আয় এসেছে ১৯৭ কোটি থেকে ২৬০ কোটি ডলারের মধ্যে।
বিশ্লেষকদের মতে, নন-কটন পোশাকের এই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার এক ইতিবাচক ইঙ্গিত। একক কোনো পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে কৃত্রিম তন্তুর পোশাকের ওপর জোর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।


