গ্যাস সরবরাহের বর্তমান ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখা এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারিসহ ৫টি বিষয়ে নীতিগত সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে সংগঠনটির ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল এসব দাবি উপস্থাপন করে।

সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল ও স্পিনিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা এবং নানা প্রতিকূলতা তুলে ধরে। বিটিএমএ সভাপতি জানান, শিল্পখাতে সম্প্রতি গ্যাস সরবরাহে দৃশ্যমান উন্নতি হওয়ায় কারখানার উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে। কারখানায় উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকারের এই পদক্ষেপের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতে নিরবচ্ছিন্ন ও সঠিক চাপের গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।

স্বদেশি শিল্পের সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ধরে রাখা, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় বিটিএমএ রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিতভাবে ৫টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরে:

১. কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার বহাল রাখা:

১০–৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা স্থগিত রাখা এবং কেবল প্রকৃত রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ অক্ষুণ্ণ রাখা। বিটিএমএর মতে, এতে স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত হবে এবং বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব হবে।

২. স্থানীয় মূল্য সংযোজন শর্ত:

নন-বন্ডেড কারখানার ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্যারান্টিতে কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত আবার চালু করা।

৩. এলডিসি উত্তর নীতি:

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব ধরনের রপ্তানিতে অন্তত ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাধ্যতামূলক করা।

৪. সমন্বিত টেক্সটাইল নীতি প্রণয়ন:

প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সংগতি রেখে শুল্ক, কর, জ্বালানি মূল্য ও অর্থায়নের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল কম্পিটিটিভনেস পলিসি তৈরি করা।

৫. বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ:

গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি বন্ডেড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধে আইনি ব্যবস্থা ও কঠোর তদারকি জোরদার করা।

বিটিএমএ নেতাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে শুনেন রাষ্ট্রপতি। দেশীয় টেক্সটাইল খাতের জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে দেখার আশ্বাস দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান তিনি।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জন বিভাগের সচিব এ. জে.এম. সালাহউদ্দিন নাগরী এবং প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com