বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) ‘নবীনবরণ ও ডোনার সংবর্ধনা–২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাঁধন বুটেক্স ইউনিট।
‘একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন’ স্লোগানকে ধারণ করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নতুন সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদায়ী ৪৮তম ব্যাচের রক্তদাতাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাঁধনের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, বুটেক্স ইউনিটের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং বাঁধনের সঙ্গে যুক্ত রক্তদাতাদের অভিজ্ঞতা ও অবদানের চিত্র তুলে ধরা হয়।
বাঁধন বুটেক্স ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক শিহাব উদ্দিন মারুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইটিইটি’র সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন, আইটিইটি’র সমাজকল্যাণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আরফান আলী প্রামাণিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা, শিক্ষার্থী কল্যাণ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, ওয়েলকিন টেক্সটাইল ইনোভেশনস লিমিটেডের পরিচালক কে. এম. আলাওল কবির এবং বাঁধন বুটেক্স ইউনিটের উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক রিফাত জাহান। এছাড়া অনুষ্ঠানে বাঁধনের সাবেক কর্মী, নতুন ও পুরাতন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “বাঁধন বুটেক্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সংগঠন, যা স্বেচ্ছায় রক্তদান ও রোগীদের সহায়তায় কাজ করে আসছে। গত বছর এ ইউনিটের মাধ্যমে ৫০০টিরও বেশি ব্যাগ রক্ত সরবরাহ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ জন রোগী উপকৃত হয়েছেন। এ বছর নতুন উদ্যোগ হিসেবে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা করা হয়েছে।”
তিনি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চক্ষু পরীক্ষা আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাঁধনের প্রতি আহ্বান জানান। এসব মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইটিইটি’র সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন বলেন, “মানবতার সেবায় কাজ করার ক্ষেত্রে বাঁধন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম পথিকৃৎ। নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, গভীর রাতেও রক্তের প্রয়োজনে যোগাযোগ করা হলে বাঁধনের কর্মীরা সবসময় ইতিবাচক সাড়া দিয়ে থাকেন।”
তিনি বুটেক্সে একটি স্থায়ী ‘ব্লাড ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা এবং মরণোত্তর চক্ষুদান কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি আইটিইটি ও অ্যালামনাইদের পক্ষ থেকে বাঁধনের যেকোনো কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
শিক্ষার্থী কল্যাণ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, “মানুষ সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারে না। বাঁধন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সেই দায়বদ্ধতা পালনের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। রক্তদানের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে শুরুতে ভয় বা দ্বিধা কাজ করলেও রক্তদানের পর যে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়, তা অসাধারণ। বাঁধনের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।”
তিনি বাঁধনকে রক্তদানের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান, যাতে এর মাধ্যমে সমাজ ও দেশ উপকৃত হয়।সমাপনী বক্তব্যে বাঁধন বুটেক্স ইউনিটের সভাপতি পিয়াল আহমেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক, রক্তদাতা ও নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “
২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করা বাঁধন বুটেক্স ইউনিটের বর্তমান সাফল্যের পেছনে নিবেদিতপ্রাণ রক্তদাতা ও দায়িত্বশীলদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সফলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবী ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সবার আন্তরিক সহযোগিতায় বাঁধন অতীতের মতো ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে। এ সময় তিনি সংগঠনের মানবিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যান্ড সংগীতের মধ্য দিয়ে আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘটে।


