গত তিন বছরে দেশে চার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ-র ২৮২টি এবং নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ-র ১২৩টি কারখানা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।পোশাক কারখানা বন্ধের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বৈশ্বিক মন্দা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট এবং বিদেশি ক্রেতাদের ছোট ও মাঝারি কারখানায় ক্রয়াদেশ প্রদানে অনিচ্ছার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মতো আন্তর্জাতিক ঘটনাগুলোও এ খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

শিল্পের অগ্রগতি ধরে রাখতে সরকারের বিভিন্ন সহায়তার কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রপ্তানিমুখী দেশীয় পোশাক খাতের সক্ষমতা বাড়াতে বিকল্প নগদ সহায়তা, ইউরো অঞ্চলের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য বিশেষ আর্থিক ছাড় চালু রাখা হয়েছে।সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে কথা বলেন।

তিনি জানান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার তদারকির পাশাপাশি সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা টাস্কফোর্স প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছে। জনস্বার্থে এ ধরনের আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com