বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক খাতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়াতে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি) এবং টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ (টিআইই)। এ লক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর এবং ‘আইটিইটি-টিআইই উদ্ভাবন ও গবেষণা সেল’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও উদ্ভাবন ও গবেষণা সেলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।অনুষ্ঠানে আইটিইটির পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. এনায়েত হোসেন এবং টিআইই স্টিয়ারিং বোর্ডের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়সার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
নতুন এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, জ্ঞান বিনিময় এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উদ্ভাবন ও গবেষণা সেলের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইটিইটির ১৫তম কাউন্সিল কমিটি থেকে চারজন কর্মকর্তাকে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তারা হলেন—প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার চন্দ্র শেখর দাস, সহপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, শিক্ষা ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফয়সাল হোসেন এবং সহশিক্ষা ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার তাসবিদুল ইসলাম দিপু।
আইটিইটি ও টিআইইর যৌথ উদ্যোগের আওতায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগামী ১২ থেকে ১৪ নভেম্বর ঢাকার আন্তর্জাতিক সম্মেলন নগরী বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিতব্য ‘টেক্সটাইল উদ্ভাবন এক্সপো ২০২৬’।
এ ছাড়া গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ের জন্য আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলন, শিল্পের পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও মাস্টারক্লাস, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রকাশের জন্য সমকক্ষ-পর্যালোচিত গবেষণা সাময়িকী এবং টেক্সটাইল শিল্পের টেকসই উন্নয়নে নীতিগত গবেষণা ও নীতিসহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইটিইটি ও টিআইইর এই যৌথ উদ্যোগ দেশের টেক্সটাইল খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্ভাবনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং শিল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণাভিত্তিক সমাধান তৈরির পথ আরও সুগম হবে।

