যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির বাজারে সার্বিক মন্দাভাব সত্ত্বেও প্রধান প্রতিযোগী চীন ও ভারতের তুলনায় তুলনামূলক শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক তৈরি পোশাক আমদানি কমলেও, একক মাস হিসেবে জুনে বাংলাদেশের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির নতুন ইঙ্গিত মিলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মোট ৩,৫০৯ কোটি ডলারে পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮.০৪ শতাংশ কম।
শীর্ষ দশে বাংলাদেশের অবস্থান
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ৭৮৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের পোশাক পাঠিয় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৪০০ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের পোশাক। এই সময়ে চীন ৩৫৭ কোটি ১০ লাখ ডলার রপ্তানি করে তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে। অন্যান্য দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ২৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, কম্বোডিয়া ২৩১ কোটি ১৭ লাখ ডলার, ভারত ২১২ কোটি ২০ লাখ ডলার, মেক্সিকো ১১৭ কোটি ৩৪ লাখ ডলার এবং পাকিস্তান ১০৬ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের পোশাক পাঠিয়েছে।
প্রতিযোগীদের তুলনায় বাংলাদেশের পারফরম্যান্স
ছয় মাসের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৭৫ শতাংশ কমেছে। তবে প্রধান দুই প্রতিযোগী চীন ও ভারতের পতন ছিল অনেক বেশি আশঙ্কাজনক। এ সময় চীনের রপ্তানি আয় কমেছে ৩৭.৬৯ শতাংশ এবং ভারতের ২৫.২৭ শতাংশ। অন্যদিকে প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে ১.০৮ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ৩.৪০ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ১২.৩২ শতাংশ।
জুনে ইতিবাচক ইঙ্গিত
ছয় মাসের মোট হিসাবে সামান্য ঘাটতি থাকলেও জুন মাসের একক পারফরম্যান্স খাতসংশ্লিষ্টদের আশা জোগাচ্ছে। ২০২৬ সালের জুনে মার্কিন বাজার বাংলাদেশ থেকে ৭৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক নেয়, যা আগের বছরের জুনের চেয়ে ৫.৭৪ শতাংশ বেশি।
এ বিষয়ে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক এবং ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েজ’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল জানান, একক কোনো মাসের ভিত্তিতে এখনই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। তবে আগের কয়েক মাসের তুলনায় জুনের পারফরম্যান্স অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। সামনের মাসগুলোতেও যদি প্রবৃদ্ধির এই ধারা বজায় থাকে, তবে তা পোশাক খাতের জন্য বেশ টেকসই ও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
খাত-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও দরপতনের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভলিউম ও গড় ইউনিট মূল্যের বিচারে প্রতিযোগী অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশ তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ সহজ করবে।

