গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সদ্য বিদায়ী জুলাই মাসে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ১.৯২ শতাংশ কমেছে। তবে এই পতনকে ‘নেতিবাচক’ হিসেবে দেখতে নারাজ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটির মতে, গত বছরের জুলাইয়ে অস্বাভাবিক বা রেকর্ড পরিমাণ রপ্তানি হয়েছিল। সেই উচ্চ ভিত্তির (বেস) সাথে তুলনা করলে বর্তমান অর্জনকে কোনোভাবেই খারাপ বলা যায় না।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিএমইএ জানায়, সবশেষ জুলাই মাসে বাংলাদেশ ৩.৮৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। যেখানে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে রপ্তানি হয়েছিল রেকর্ড ৩.৯৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক—যা ছিল তখনকার হিসেবে ২৪.৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।সংগঠনটি আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারকে কেন্দ্র করে গত বছর এই অস্বাভাবিক রপ্তানি হয়েছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পূরক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, যা কার্যকর হয় ২০২৫ সালের আগস্টে। ওই শুল্ক এড়াতে মে ও জুন মাসে বিদেশি ক্রেতারা তড়িঘড়ি করে অতিরিক্ত অর্ডার দিয়েছিল। ফলে জুলাই মাসে রপ্তানিতে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন দেখা যায়। সেই ব্যতিক্রমী অর্জনের সঙ্গে চলতি বছরের স্বাভাবিক রপ্তানির তুলনা করা যুক্তিসঙ্গত নয়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে দেশের সার্বিক রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৭২ কোটি ৭৪ লাখ (৪.৭৩ বিলিয়ন) ডলারে, যা আগের বছরের ৪৭৭ কোটি ৬ লাখ ডলারের চেয়ে ১ শতাংশ কম।বর্তমানে দেশের পোশাক শিল্প তীব্র গ্যাস সংকট ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মতো নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে কাঁচামাল আমদানির ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) অনুমোদনও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২.৮ শতাংশ কমেছে।
এসব প্রতিবন্ধকতার পরও একক মাসে ৩.৮৯ বিলিয়ন ডলার আয়কে ইতিবাচক সূচনা হিসেবেই দেখছে বিজিএমইএ। সংগঠনটি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, জ্বালানি সংকট নিরসন ও প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা পেলে আগামী মাসগুলোতে পোশাক খাত আবারও প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসবে।

