নব্বইয়ের দশকে দেশের পোশাক ও স্পিনিং খাতে দাপট দেখানো সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেড এখন তীব্র অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। পুঞ্জীভূত লোকসান, ঋণের চাপ এবং বিদ্যুৎ খরচের বৃদ্ধিতে কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তবে ভোলা থেকে গ্যাস সংযোগ পাওয়া গেলে আবারও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।
১৯৮৫ সালে বরিশাল অঞ্চলে খান সন্স গ্রুপের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় সোনারগাঁও টেক্সটাইলস। তৎকালীন বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের অর্থায়নে ১৯৯২ সালে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে তারা। এর পর ১৯৯৫ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তালিকাভুক্ত হয় কোম্পানিটি।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সোনারগাঁও টেক্সটাইলের ব্যবসায়িক সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মতো। সে সময় বার্ষিক বিক্রি ৭৮ কোটি টাকায় পৌঁছায় এবং কর্মীসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৫০ জনে। তবে ২০১২ সালের পর থেকে চিত্র বদলাতে শুরু করে এবং ২০১৩ সাল থেকে টানা লোকসানের মুখ দেখতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে।
সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্যানুযায়ী, কোম্পানিটি ৩২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আয় করলেও নিট লোকসান হয়েছে ২ কোটি ১২ লাখ টাকা। ফলে শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৮০ পয়সায়। বর্তমানে ১২৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকার মোট সম্পদের বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৩ কোটি টাকারও বেশি।
বিদ্যমান সংকটের কারণে এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা ৩০ শতাংশ কমে ৮০১ জনে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সঞ্চিত লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ ও চলতি মূলধনের ঘাটতি থাকায় কোম্পানির ভবিষ্যৎ কার্যক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন নিরীক্ষকরা।
কোম্পানি কর্তৃপক্ষের মতে, প্রতিযোগীদের তুলনায় গ্যাসের সুবিধা না থাকা এবং সম্পূর্ণ বিদ্যুৎনির্ভর উৎপাদনের কারণে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তবে বরিশালের এই ঐতিহাসিক কারখানাটি টিকিয়ে রাখতে উদ্যোক্তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোলা থেকে পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচ উল্লেখজনকভাবে কমবে এবং টেক্সটাইলটি আবারও মুনাফায় ফিরবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

