মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার কারণে সারাদেশে তৈরি হয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও রফতানি সচল রাখতে বিকল্প হিসেবে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সংগ্রহের সুযোগ চেয়েছে পোশাক খাত। দেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সরকারের কাছে এ আবেদন জানিয়েছে।
সংগঠন দুটি সরকারের কাছে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তৈরি পোশাক কারখানাগুলোকে সাময়িকভাবে সিএনজি স্টেশন থেকে ক্যাসকেড বা সিলিন্ডারে গ্যাস সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে রফতানি পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে না।
তিতাসের কড়াকড়ি ও কারখানার তীব্র সংকট
এর আগে ২৭ জুলাই তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি নির্দেশ দেয়, অনুমোদিত যানবাহনের বাইরে খোলা সিলিন্ডার বা ক্যাসকেডে প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখতে হবে। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও গ্যাস বিতরণ আইনের পরিপন্থি উল্লেখ করে তিতাস এ নির্দেশ অমান্য করলে সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেয়। তিতাসের এই কড়াকড়ির পর ফিলিং স্টেশনগুলো সিলিন্ডারে গ্যাস দেওয়া বন্ধ করে দেয়, যা সংকট আরও বাড়ায়।
উল্লেখ্য, মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ফলে অধিকাংশ শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ শূন্য পিএসআইয়ে নেমে এসেছে।
ব্যবসায়ীদের যুক্তি ও সরকারি আশ্বাস
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানান, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি রফতানিমুখী পোশাক খাত। কারখানা সচল রাখা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার স্বার্থে সাময়িকভাবে হলেও ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
অপরদিকে বিকেএমইএ জানায়, রফতানি খাতের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের সভাপতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সচিব তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে রফতানিমুখী কারখানাগুলো স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধি মেনে আগের মতোই সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে পারে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কবে?
জ্বালানি বিভাগ ও শিল্প সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সংকট ৮ আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।সরকার ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে বিকল্প হিসেবে কারখানাগুলোতে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় এলএমজি (মোবাইল গ্যাস) ব্যবহার এবং নিরাপত্তা নির্দেশনাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বিকেএমইএ।

