দেশীয় পাট শিল্পকে বাঁচাতে কাঁচাপাট রফতানি বন্ধ থাকলেও ‘জুট সিলভার’ নামে পাটের প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাত একটি পণ্য বিদেশে পাঠানো অব্যাহত রয়েছে। এই রফতানি অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ)।
সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটি এই দাবি জানায়।বিজেএ সভাপতি খন্দকার আলমগীর কবিরের সই করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের কোটি কোটি কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তার জীবন-জীবিকা পাট খাতের ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয় শিল্পে কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে কাঁচাপাট রফতানি নিষিদ্ধ করে। তবে এর মধ্যেই জুট সিলভার রফতানি চালু রাখা হয়েছে এবং এতে ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, একদিকে কাঁচাপাট রফতানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, অন্যদিকে ১০ শতাংশ প্রণোদনা দিয়ে জুট সিলভার রফতানির সুযোগ তৈরি রাখা হয়েছে। অথচ জুট সিলভার তৈরির প্রক্রিয়ায় শ্রমিকের তেমন প্রয়োজন হয় না; শ্রমিকের কর্মসংস্থান মূলত কাঁচাপাট উৎপাদন ও স্থানীয় পাটকলগুলোর সঙ্গেই বেশি যুক্ত।
সংগঠনটির দাবি, ১০ শতাংশ সরকারি সহায়তা পাওয়ার কারণে পাটকল মালিকরা বিপুল পরিমাণ জুট সিলভার বিদেশে রফতানি করছেন। এর মাধ্যমে মিল মালিকরা এককভাবে পাটের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন, যার ফলে সাধারণ চাষিরা পাটের ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি নিরসনে দ্রুত জুট সিলভার রফতানি বন্ধের জোর আবেদন জানিয়েছে বিজেএ।

