গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ‘করণী ফ্যাশনস লিমিটেড’ নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী গত শনিবার (১১ জুলাই) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কারখানার মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও কমপ্লায়েন্স) আশিক ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কারখানা বন্ধের এই আদেশ জারি করা হয়। শনিবার সকালে শ্রমিকরা কর্মস্থলে এসে কারখানার ফটকে বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। কারখানাটিতে মোট প্রায় আট হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন, যার মধ্যে তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শাখায় কাজ করেন আনুমানিক তিন হাজার কর্মী।

কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়েছে, গত বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল থেকে কোনো ধরনের পূর্ব আভাস ছাড়াই গার্মেন্টস শাখার শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ করে দেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালেও তারা কারখানায় প্রবেশ করে কাজ করা থেকে বিরত থাকেন। দফায় দফায় অনুরোধ সত্ত্বেও শ্রমিকরা উৎপাদনে না ফেরায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী শনিবার থেকে কারখানার সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। কাজের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে পরবর্তীতে কারখানা খোলার তারিখ নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে। তবে প্রতিষ্ঠানের নিটিং শাখা এবং একই মালিকানাধীন অন্যান্য কারখানা এই ঘোষণার আওতামুক্ত থাকবে।

অন্যদিকে আন্দোলনের বিষয়ে শ্রমিকদের দাবি, মালিকপক্ষ প্রতি মাসের বেতন একবারে না দিয়ে ধাপে ধাপে পরিশোধ করে। এতে বাসা ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে তারা চরম হিমশিম খাচ্ছেন। এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতেই তারা কাজ বন্ধ রেখেছিলেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম বলেন, “শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা বুঝিয়ে না দিয়েই অবৈধভাবে কারখানা বন্ধ করা হয়েছে। মূলত বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদ করায় মালিকপক্ষ এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে করণী ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাউর রহমান খানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, কারখানাটিতে বেশ কিছুদিন ধরেই শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল। বন্ধ ঘোষণার পর যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ নজরদারি রাখছে।উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩০ জুন শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেডও (ইউনিট-২) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com