EMMTEX SLN Textile Industry Advertisement Banner

বিশ্বখ্যাত পোশাক ব্র্যান্ডের অর্ডার আবারও আকর্ষণ করতে চট্টগ্রামে বহুতল ভবনভিত্তিক গার্মেন্টস জোন গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এই উদ্যোগের আওতায় নগরীর চারটি এলাকায় অন্তত ২৫টি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মুরাদপুর, বায়েজিদ, বহদ্দারহাট ও আগ্রাবাদ এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে একটি করে গার্মেন্টস কারখানা থাকবে। ভবনগুলোতে আধুনিক ফ্লোর স্পেসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস, জেনারেটর ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ চেয়ে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে বিজিএমইএ। প্রতিটি জোনের জন্য তিন থেকে পাঁচ একর জমি চাওয়া হয়েছে।

বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুসরণ করে ভবন নির্মাণ করা হবে। জেনারেটরসহ বিভিন্ন সাধারণ সুবিধার ব্যয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে ভাগাভাগি হবে। বর্তমানে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

তিনি জানান, উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ বছরের সফট লোন সুবিধার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্ত হলে ঋণের মেয়াদ ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে। এছাড়া ভাড়ার অর্থ ডাউন পেমেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর ভবনের মালিকানা উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ছয়তলা ভবনে অন্তত ৩০ হাজার বর্গফুট কর্মপরিসর থাকবে। প্রতিটি কারখানায় ৬০০ থেকে এক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী বলেন, একসঙ্গে কয়েকটি কারখানা স্থানান্তর করা গেলে আন্তর্জাতিক বড় ব্র্যান্ডের অর্ডার পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। এতে ভালো মূল্য পাওয়া যাবে এবং নতুন উদ্যোক্তাও তৈরি হবে। বর্তমানে চট্টগ্রামে প্রায় ৩০০ কারখানা থাকলেও ভবিষ্যতে তা ৫০০ থেকে ৭০০-তে উন্নীত হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্বাধীনতার পর দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানির যাত্রা শুরু হয়েছিল চট্টগ্রাম থেকেই। তবে নানা সংকটে গত চার দশকে এ খাতের রপ্তানি অংশীদারিত্ব ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ২০০ কারখানা।

বিজিএমইএর পরিচালক এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির ১০ থেকে ১২ শতাংশ আসে চট্টগ্রাম থেকে। বন্দরনির্ভর অবস্থানের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য চট্টগ্রাম অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অঞ্চল।

বর্তমানে চট্টগ্রামে দুটি ইপিজেডসহ বিভিন্ন এলাকায় চার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় প্রায় আট লাখ শ্রমিক কর্মরত আছেন। চট্টগ্রাম থেকে বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়।

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com