মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) খাত নতুন করে চাপে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা এবং পশ্চিমা ক্রেতাদের অর্ডার কমানোর প্রবণতা মিলিয়ে খাতটি একটি কঠিন সময় পার করছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী মৌসুমে ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতারা প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত পোশাকের অর্ডার কমাতে পারেন। এর প্রধান কারণ হলো—বাজারে অবিক্রীত পণ্যের মজুত বেড়ে যাওয়া এবং পোশাকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোক্তাদের চাহিদা কমে যাওয়া।
এরই মধ্যে জ্বালানি সংকট, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি দেশের কারখানাগুলোর উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে, যা পুরো সরবরাহ চেইনে চাপ সৃষ্টি করছে।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, কাঁচামাল আমদানির খরচ এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে পণ্যবাহী ট্রাক ভাড়া বেড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে, যা আগে ছিল ৩৮ হাজার টাকা। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পরিবহন ব্যয় গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, ডিজেল সংকটের কারণে অনেক কারখানাই নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চালাতে পারছে না। যেসব কারখানা জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল, তারা প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছে না। ফলে উৎপাদনে বিলম্ব হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে গিয়ে ব্যয়বহুল বিমান পরিবহন ব্যবহার করতে হচ্ছে।
এছাড়া তুলা ও সুতা (ইয়ার্ন) এর দাম ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ক্রেতারা এই বাড়তি খরচ বহনে অনীহা দেখাচ্ছেন।
খাত সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এসব কারণে চলতি বছরে পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় কম হতে পারে।
শিল্প উদ্যোক্তারা আরও জানান, ইউরোপে জ্বালানি দামের কারণে শীতবস্ত্রের চাহিদা কিছুটা বাড়তে পারে, তবে বাজারে এখনও অতিরিক্ত মজুত থাকায় নতুন অর্ডার ধীরগতিতে আসছে।
এদিকে, প্রতিযোগী দেশ যেমন তুরস্ক—ভৌগোলিক সুবিধা ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহের কারণে রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (BGMEA) জানিয়েছে, তারা ক্রেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। যদিও কারখানাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তবুও পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামনে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

