Advertisement

চার দশক আগে চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাট এলাকায় ছোট পরিসরে শুরু হয়েছিল দেশের ডেনিম যাত্রা। প্রয়াত উদ্যোক্তা নাসির উদ্দিন দুই সহযাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন এনজেডএন ফ্যাশন। সেই প্রতিষ্ঠান থেকেই ১৯৮৪ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে জিনস রপ্তানি হয়। ইতালির একটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে মাত্র ১২ হাজার ডলারের পণ্য পাঠানো হয়েছিল তখন।

সময়ের ব্যবধানে সেই ছোট উদ্যোগ এখন বিশাল শিল্পখাতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র—এই দুই প্রধান বাজারে ডেনিম পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। কয়েক বছর আগে অর্জিত এই অবস্থান প্রতি বছর আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক তথ্যসূত্র অনুযায়ী, গত বছর এই দুই বাজারে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৬০ কোটি ডলারের ডেনিম পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২০৭ কোটি ডলার।

উদ্যোক্তাদের মতে, দেশের ডেনিম শিল্পের এই অগ্রগতির পেছনে রয়েছে বড় ধরনের বিনিয়োগ, স্থানীয়ভাবে কাঁচামালের প্রাপ্যতা এবং উৎপাদন খরচে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা। গ্যাস ও পানির তুলনামূলক কম খরচ, আধুনিক কারখানা স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় ক্রয়াদেশও বেড়েছে।

বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এতদিন কম দামের পোশাকই প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল। তবে এখন ডেনিমের মতো বেশি মূল্যের পণ্য ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করছে।

শিল্পমালিকদের সংগঠনের নেতারা বলছেন, বিশ্বজুড়ে ডেনিম পোশাকের চাহিদা সারা বছরই থাকে। দেশে নতুন ডেনিম মিল ও আধুনিক ওয়াশিং প্ল্যান্ট গড়ে ওঠায় উৎপাদন সক্ষমতাও বেড়েছে, যা রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত বছর বাংলাদেশ প্রায় ৯৬ কোটি ডলারের ডেনিম পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ১৬৪ কোটি ডলারের পণ্য। দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।

বিশ্ববাজারে ডেনিমের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে এর আরামদায়ক ব্যবহার, দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং সাশ্রয়ী দাম। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে এই পণ্যের আমদানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

এক দশক আগেও দেশে ডেনিম কাপড় উৎপাদনকারী মিল ছিল মাত্র ১০ থেকে ১২টি। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫০-এ পৌঁছেছে। এখন দেশের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ ডেনিম কাপড় স্থানীয়ভাবেই উৎপাদিত হচ্ছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ডেনিম প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডেনিমে যে সাফল্য এসেছে, তা অন্য সম্ভাবনাময় পণ্যেও অর্জন করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে আরও শক্তিশালী সংযোগ এবং পণ্যের কার্যকর প্রচারণা।

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com