শুল্কমুক্ত সুতা আমদানিতে নতুন সরকারি কড়াকড়ির সুযোগ নিয়ে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো সুতার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পোশাক রপ্তানিকারকেরা। তাদের দাবি, এতে ভারতীয় সুতার সঙ্গে স্থানীয় সুতার মূল্যের ব্যবধান নাটকীয়ভাবে বেড়েছে, যা অতিরিক্ত খরচের চাপে থাকা পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মূলত অবিক্রীত সুতার পাহাড় জমা হওয়া দেশীয় টেক্সটাইল মিলগুলোকে বাঁচাতে সম্প্রতি সরকার এই নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কাউন্টের সুতা আমদানিতে চালানের সমমূল্যের ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে পোশাক প্রস্তুতকারকদের মতে, স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো এই সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার অপব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে দর বাড়িয়েছে। ফলে চড়া দামেই তাদের কাছ থেকে সুতা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কারখানা মালিকেরা।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) শীর্ষ মিলগুলোর সুতার একটি তুলনামূলক মূল্য তালিকা তৈরি করেছে, যা শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। ওই তালিকা অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর আমদানিতে বিধিনিষেধ চালুর পর থেকে স্থানীয় সুতার দাম প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আগস্টের শেষে যেখানে ভারতীয় সুতার তুলনায় দেশীয় সুতার দাম ৯ শতাংশ বেশি ছিল, অক্টোবরে সেই ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ শতাংশে। এমনকি তালিকা তৈরির পরও সুতার দাম ক্রমাগত বাড়ছে বলে অভিযোগ উদ্যোক্তাদের।
অন্যদিকে, নতুন নিয়মের কারণে অনেক আমদানিকারক চট্টগ্রাম বন্দরে আসা সুতার চালান ছাড় করাতে পারছেন না। ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানির ওপর এমন কড়াকড়িতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইকোনমিক জোন) বিনিয়োগকারীদের সংগঠনও।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, বেশি ব্যবহৃত ৩০-সিঙ্গেল কম্বড কার্ডেড সুতার দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৩.৮০ ডলার থেকে বেড়ে ৩.৯০ ডলারে উঠেছে, যা আগস্টেও ছিল ৩.৬৫ ডলার। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অতিরিক্ত দাম দিতে রাজি না থাকায়, স্থানীয় মিলগুলোর এমন পদক্ষেপ পোশাক খাতকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে স্পিনিং মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সংগঠনটির অতিরিক্ত মহাসচিব মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, ঢালাও অভিযোগ না তুলে নির্দিষ্ট প্রমাণ ও এলসির সঠিক নথি উপস্থাপন করা উচিত। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম কেজিপ্রতি প্রায় ০.২০ ডলার বাড়ায় এবং আগের লোকসান পুষিয়ে নিতে দর কিছুটা সমন্বয় হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি দেশীয় সুতার মান ভালো হওয়া এবং চার মাসের বাকিতে বিক্রির সুবিধা থাকায় ভারতীয় সুতার সাথে সরাসরি দামের তুলনা যুক্তিসঙ্গত নয়।
এর বিপরীতে পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, তাদের কাছে সুতা বিক্রির প্রফর্মা ইনভয়েসসহ পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। এক নিটওয়্যার কারখানার মালিক জানান, তারা ভারতীয় সুতার চেয়ে কেজিতে সর্বোচ্চ ০.৩০ ডলার বেশি দিতে রাজি ছিলেন, কিন্তু এখন সেই ব্যবধান ০.৬০ থেকে ০.৭০ ডলারে পৌঁছেছে। এতে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের অর্ডারে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা হারাচ্ছে বাংলাদেশ।


