বন্ড সুবিধায় ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানির ওপর এনবিআরের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জরুরি সহায়তা চেয়েছেন তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এতে কাঁচামাল প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমার আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা ভারত ও মিসরের মতো বিকল্প দেশে ক্রয়াদেশ সরিয়ে নিচ্ছেন।
তৈরি পোশাকশিল্পের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও মোহাম্মদ হাতেম যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়ে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বারবার নীতি পরিবর্তনের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়ে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা অভিযোগ করেন, গত ২০ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সভায় বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর প্রস্তাবের পর, সভার সিদ্ধান্ত না হওয়া সত্ত্বেও কার্যবিবরণীতে তা যুক্ত করা হয়। এর ওপর ভিত্তি করে গত ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা স্থগিত করে ব্যাংক গ্যারান্টির শর্ত আরোপ করে।
পরবর্তীকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এনবিআরকে এ সিদ্ধান্ত স্থগিতের অনুরোধ জানালেও এনবিআর তা তোয়াক্কা না করে উল্টো নতুন আদেশ জারি করেছে। ফলে রপ্তানি খাতে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এনবিআরের এই আদেশের পর স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো সুতার দাম পাউন্ডপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ সেন্ট পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে শুল্ক বা ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে গিয়ে উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন আটকে থাকছে, যা বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলোর জন্য বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় এনবিআরের আদেশটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন পোশাক খাতের নেতারা। এলডিসি উত্তরণের আগে এমন সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই নীতি প্রণয়নের ওপর জোর দেন।


