EMMTEX SLN Textile Industry Advertisement Banner

চীন-ভারতের আগ্রাসী প্রতিযোগিতা ও অভ্যন্তরীণ সংকটকে দায়ী করছেন উদ্যোক্তারাইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) এই বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ইইউর বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে রপ্তানি হ্রাসের এই হার সর্বোচ্চ।

ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ইউরোপের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ২ হাজার ৭৭৭ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। এই বৈশ্বিক মন্দার বাজারে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনা সবচেয়ে বেশি কমিয়েছেন ইউরোপের ক্রেতারা। গত বছরের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশ যেখানে ৭৫৪ কোটি ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছিল, এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬০৯ কোটি ইউরোতে।

রপ্তানি কমার প্রধান কারণসমূহসংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা এই ধসের পেছনে তিনটি বড় বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ কারণকে চিহ্নিত করেছেন:

চীনের আগ্রাসী বিপণন:

ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের পর চীনা ব্যবসায়ীরা ইইউর বাজার ধরতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। রাষ্ট্রীয় নানা সুযোগ-সুবিধা ও বড় অঙ্কের মূল্যছাড় দিয়ে তারা ইইউর বড় বড় ক্রয়াদেশ লুফে নিচ্ছেন।

ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ):

ভারতের সঙ্গে ইইউর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার কারণে ইউরোপের অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এখন বাংলাদেশ থেকে অর্ডার সরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশটিতে নিয়ে যাচ্ছে।

ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও যুদ্ধ:

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সামগ্রিকভাবে ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা ও কেনাকাটা কমে গেছে।দেশের ভেতরের ব্যাংকিং সংকটব্যবসায়ীরা জানান, বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতার সময়ে যেখানে চীনসহ অন্যান্য দেশের সরকার তাদের উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের চিত্র ছিল উল্টো। দেশের ব্যাংক খাতের ভঙ্গুর অবস্থার কারণে অনেক কারখানা সময়মতো প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পায়নি। ফলে বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেকের রপ্তানি কার্যক্রম থমকে গেছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকেও নীতিগত সুবিধা ও প্রণোদনা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থানইইউর বাজারে পোশাক রপ্তানিতে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে চীন। আলোচ্য সময়ে তারা ৭৯৫ কোটি ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ কম। তবে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম। দেশটিতে রপ্তানি কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ (রপ্তানি ১৩৭ কোটি ইউরো)। এছাড়া তুরস্কের সাড়ে ১৬ শতাংশ (রপ্তানি ২৪২ কোটি ইউরো), ভারতের ১২ শতাংশ (রপ্তানি ১৬৪ কোটি ইউরো) এবং পাকিস্তানের ১৮ শতাংশ রপ্তানি কমেছে।

পরিমাণ বেশি হলেও দামে পিছিয়ে বাংলাদেশপরিসংখ্যান অনুযায়ী, মূল্যের দিক থেকে চীন এগিয়ে থাকলেও পরিমাণের দিক থেকে ইইউতে এখনো সবচেয়ে বেশি পোশাক সরবরাহ করে বাংলাদেশ। চার মাসে বাংলাদেশ ৪৪ কোটি কেজি পোশাক রপ্তানি করেছে, যেখানে চীন পাঠিয়েছে ৪১ কোটি কেজি। তবে দামের ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। চীন যেখানে প্রতি কেজি পোশাক গড়ে ১৯ দশমিক ৪৪ ইউরোতে বিক্রি করেছে, সেখানে বাংলাদেশ বিক্রি করেছে মাত্র ১৩ দশমিক ৯৬ ইউরোতে। অর্থাৎ, কম মূল্যে বেশি পণ্য রপ্তানি করেও বাংলাদেশের সামগ্রিক আয় কমেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে মোট ৩ হাজার ৫৩১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে ৪৯ শতাংশ বা ১ হাজার ৭৩৬ কোটি ডলারই গেছে ইইউর বাজারে। সামগ্রিকভাবে এই সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ।

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com