বিশ্ববাজারের তীব্র প্রতিযোগিতা ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থায়ন বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় অঙ্কের অর্থায়ন সংকট। ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে এ খাতে প্রায় ৬৬০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে অর্থায়নের ঘাটতি রয়ে গেছে প্রায় ৪৮০ কোটি ডলার—যা মোট চাহিদার প্রায় ৭৩ শতাংশ।
রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সম্প্রতি আয়োজিত ‘আনলকিং গ্রিন ফাইন্যান্স পাথওয়েজ ফর বাংলাদেশ’স আরএমজি সেক্টর’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য সামনে আসে। গবেষণা সংস্থা লাইটক্যাসল পার্টনার্স ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে মূল উপস্থাপনায় লাইটক্যাসল পার্টনার্সের প্রিন্সিপাল বিজনেস কনসালট্যান্ট সৌমিক শাহরিয়ার তৈরি পোশাক খাতে পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের চিত্র, মূলধন পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং নতুন সবুজ বিনিয়োগের বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
আলোচনায় বক্তারা জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট কাটাতে এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে কারখানায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি আবশ্যক। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব বা ‘সবুজ কারখানা’র পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) কারখানার জন্য সবুজ ঋণ বা টেকসই অর্থায়ন ব্যবস্থা সহজ করা দরকার।
উদ্যোক্তা ও খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ঋণের শর্ত শিথিল করা, ক্রেডিট গ্যারান্টি বা ঋণের নিশ্চয়তা ব্যবস্থা চালু করা এবং ব্যাংক, শিল্পমালিক, নিয়ামক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের সুপারিশ করেন। এর পাশাপাশি পোশাক খাতে কর্মরত নারী শ্রমিকদের জীবিকা ও সার্বিক কল্যাণ সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসান খালেদ ফয়সল বলেন, পোশাক খাতের পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে টেকসই অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ, শাশা ডেনিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ এবং ইডকলের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নাজমুল হকসহ ব্যাংক ও তৈরি পোশাক খাতের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, এইচঅ্যান্ডএম ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘অপরাজিতা দ্বিতীয় পর্যায়: জাস্ট ট্রানজিশন ফর উইমেন ইন দ্য আরএমজি ইকোসিস্টেম’ প্রকল্পের অধীনে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য পোশাক শিল্পে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি এবং নারী শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা।


