দেশীয় স্পিনিং খাতের বিশাল সম্ভাবনা ও বিপুল উৎপাদন সক্ষমতাকে পুরোদমে কাজে লাগাতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বজায় রাখার জোরালো দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানায় নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং রিসাইকেল ও টেকসই পোশাক উৎপাদনে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এ খাতে নিয়োজিত শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিনিং খাতের প্রতিনিধিদের পক্ষে এসব দাবি তুলে ধরেন সালমা গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আজহার আলী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্প্রতি ঘোষিত আদেশ অনুযায়ী ১০-৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল করা হলেও প্রকৃত রপ্তানিকারকদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

এটি দেশীয় শিল্পকে রক্ষার পাশাপাশি বন্ড সুবিধার অনিয়ম ও অপব্যবহার রোধে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এ ব্যবস্থার ফলে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের কাঁচামাল প্রাপ্তি ব্যাহত হবে না, বরং স্থানীয় সুতার ব্যবহার বাড়লে বন্ধ ও আংশিক চালু থাকা স্পিনিং মিলগুলো পূর্ণ উদ্যমে সচল হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

টেক্সটাইল খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে ৫৩০টি স্পিনিং মিলের বার্ষিক সুতা উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৪২০ কোটি কেজি। তবে নানা সংকটে পড়ে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১১৭টি মিল পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে চালু থাকা ৪১৩টি মিলের কেবল ১০-৩০ কাউন্ট সুতা উৎপাদনের বার্ষিক ক্ষমতা ১৩০ কোটি কেজি।

অথচ এনবিআরের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ মানের সুতা আমদানির পরিমাণ ছিল ২১ কোটি ৬০ লাখ কেজি, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি কেজিতে। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে এ সুতার আমদানি বেড়েছে প্রায় ১১৩ শতাংশ।

বক্তারা উল্লেখ করেন, অভ্যন্তরীণ বাজারের সুতা ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে তৈরি পোশাক খাতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন (লোকাল ভ্যালু অ্যাড) বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বন্ডের আওতায় সুতা এনে খোলাবাজারে অবৈধভাবে বিক্রির পথও বন্ধ হবে।

এছাড়া, ব্যাংক গ্যারান্টি খালাসের প্রক্রিয়ার সঙ্গে রপ্তানি আয় দেশে ফিরিয়ে আনার শর্ত যুক্ত থাকায় আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা আসবে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। সম্প্রতি প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ রপ্তানি আয় দেশে না আসার যে তথ্য সামনে এসেছে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সঠিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ দেওয়া হয়।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com