গ্যাসের তীব্র স্বল্পতায় দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাক ও বস্ত্র কারখানার উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংকট কাটাতে কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হওয়া রোধে এলাকাভিত্তিক সাপ্তাহিক গ্যাস রেশনিং ও সুষম বণ্টনের দাবি জানিয়েছে এ খাতের চার শীর্ষ সংগঠন। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) কাছে সম্প্রতি যৌথভাবে এই আবেদন করা হয়।

আবেদনকারী সংগঠনগুলো হলো—বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ এবং বিটিটিএলএমইএ। চিঠিতে বলা হয়, গ্যাস সরবরাহে বৈষম্যের কারণে মূল শিল্পাঞ্চলগুলোতে পর্যাপ্ত চাপ থাকছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্যের শিপমেন্ট পাঠানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

শিল্প মালিকরা জানান, সার্বক্ষণিক কম চাপে কারখানা চালানো অসম্ভব। এর চেয়ে এলাকাভিত্তিক নির্দিষ্ট দিনে পূর্ণ চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হলে উৎপাদনে গতি আসবে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, রেশনিং চালু হলে কারখানাগুলো আগে থেকে উৎপাদন পরিকল্পনা সাজাতে পারবে এবং শ্রমিকদের বসিয়ে রেখে বেতন দেওয়ার লোকসান কমবে।

চিঠিতে প্রদত্ত তথ্যমতে, দেশের প্রায় ৯৪ শতাংশ পোশাক ও বস্ত্র কারখানা (প্রায় ৬ হাজার ৫০০টি) তিতাস গ্যাসের আওতাভুক্ত। যেখানে অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ শ্রমিকের জীবিকা জড়িত এবং রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ এই অঞ্চল থেকেই আসে।

সংগঠনগুলোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ৫ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর তিতাস এলাকায় দৈনিক বরাদ্দ ৯৮০ এমএমসিএফডি থাকলেও বাস্তবে সরবরাহ মিলেছে গড়ে ৮৮৩.২০ এমএমসিএফডি। ফলে প্রতিদিন গড়ে ৯৬.৮০ এমএমসিএফডি গ্যাসের ঘাটতি সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, অন্যান্য আঞ্চলিক কোম্পানিগুলোকে বরাদ্দের চেয়ে বেশি গ্যাস দেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com