আন্তর্জাতিক সমমজুরি দিবস। বিশ্বজুড়ে নারী ও পুরুষের কাজের ক্ষেত্রে আয়ের ব্যবধান তুলে ধরা এবং সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দিনটি পালিত হয়। বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একই ধরনের কাজ করা সত্ত্বেও নারীরা পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম মজুরি পান।

কেন পিছিয়ে নারীরা?

নারী ও পুরুষের আয় বৈষম্যের পেছনে ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত কিছু কারণ রয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, গৃহস্থালি ও পরিচর্যা মূলক কাজে নারীরা প্রতিদিন গড়ে পুরুষদের চেয়ে তিন ঘণ্টা বেশি অবৈতনিক শ্রম দেন। এ ছাড়া মাতৃত্বকালীন প্রভাব, নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব এবং অভিবাসী নারীদের একটি বড় অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত থাকা এর অন্যতম প্রধান কারণ।

বছরে প্রায় তিন মাসের ‘বিনামূল্যে’ শ্রমমজুরি ব্যবধানের হিসাবটি সহজভাবে বোঝা যায় এক বছরের আয়ের পার্থক্যে। একজন পুরুষ এক বছরে যে পরিমাণ আয় করেন, সমপরিমাণ টাকা আয় করতে একজন নারীকে বছরের শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় তিন মাস কাজ করতে হয়। অর্থনৈতিক পরিভাষায় এটিকে বৈষম্যের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়।

যা করা প্রয়োজন

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ‘সি১০০’ কনভেনশন অনুযায়ী সমান কাজের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত করা একটি মৌলিক মানবাধিকার। কর্মক্ষেত্রে এই বৈষম্য দূর করতে যৌথ দর-কষাকষি, সামাজিক সংলাপ এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

ইপিক (EPIC)-এর ভূমিকাবিশ্বজুড়ে নারী-পুরুষের আয়ের বৈষম্য কমাতে কাজ করছে আন্তর্জাতিক জোট ‘ইপিক’ (Equal Pay International Coalition)। আইএলও, ইউএন উইমেন এবং ওইসিডি যৌথভাবে এটি পরিচালনা করে। সরকার, নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে সমমজুরি বাস্তবায়নে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে সংগঠনটি।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com