দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটে নিটওয়্যার খাতের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যেই নতুন আমদানি নীতিতে ‘নিট ফেব্রিক্স’ আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় তৈরি পোশাক খাতে নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, বিদেশি ক্রেতাদের রফতানি আদেশ ঠিক রাখতে যখন বাধ্য হয়ে অনেক কারখানাকে কাঁচামাল আমদানি করতে হচ্ছে, তখন এই বিধিনিষেধ রফতানি বাণিজ্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সদ্য ঘোষিত ‘আমদানি নীতি ২০২৬-২০২৯’-এর সংশ্লিষ্ট ধারাটি স্থগিত অথবা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্যমন্ত্রীকে দেওয়া এক চিঠিতে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এ আহ্বান জানান।চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী পণ্য তৈরি করতে অনেক সময় বিদেশি কাপড়ের প্রয়োজন হয়। বর্তমান বাস্তবতায় নিট ফেব্রিক্স আমদানির সুযোগ বন্ধ করা হলে নির্ধারিত সময়ে রফতানি চালান পাঠানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা হারানোর পাশাপাশি দেশের সার্বিক রফতানি আয়েও বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, নিট পোশাকের প্রাথমিক কাঁচামাল বা ফেব্রিক্স তৈরি, রঙ করা ও ওয়াশিং প্রক্রিয়ায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের সরবরাহ অপরিহার্য। কিন্তু গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না। ফলে দেশীয় বাজার থেকে চাহিদা অনুযায়ী কাপড়ের জোগান পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া নির্দিষ্ট মান, অনন্য নকশা ও পণ্যের বৈচিত্র্যের জন্য বিদেশি ক্রেতারাই অনেক সময় নির্দিষ্ট ফেব্রিক্স বিদেশ থেকে আনার শর্ত জুড়ে দেন।

চিঠিতে আরও একটি বড় সমস্যার কথা তুলে ধরেছে বিকেএমইএ। নতুন নীতি প্রকাশের আগেই অনেক রফতানিকারক ফেব্রিক্স আমদানির জন্য ব্যাংক ঋণপত্র (এলসি) খুলেছিলেন। সেই কাঁচামালের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে, অনেক চালান পথিমধ্যে রয়েছে। এখন নীতিগত নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব পণ্য খালাস নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বন্দর থেকে সময়মতো কাঁচামাল খালাস করতে না পারলে পুরো উৎপাদন সূচি ভেস্তে যাবে।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, এর আগে অংশীজনদের সঙ্গে সরকারের এক সভায় এই ধারাটি ‘ভুলবশত’ যুক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল এবং তা সংশোধনের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত চূড়ান্ত নীতিমালার ধারা ২৫-এর উপধারা ১২-তে ‘নিট ফেব্রিক্স আমদানি যোগ্য হবে না’ বিধানটি বহাল রাখা হয়েছে, যা রফতানিকারকদের চরম হতাশ করেছে।

পোশাক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাস সংকটের কারণে দেশীয় সুতা ও কাপড় উৎপাদনকারী কারখানাগুলো যখন চরম চাপে রয়েছে, তখন কাঁচামাল আমদানির পথ একবারে বন্ধ করে দেওয়া আত্মঘাতী হবে। দ্রুত এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহার বা নমনীয় নীতি গ্রহণ করা না হলে রফতানি মুখ থুবড়ে পড়বে।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com