উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, অর্থায়ন সংকট, গ্যাস-বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। গত সাড়ে তিন বছরে সারা দেশে ২৮৭টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চাকরি হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার শ্রমিক।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ২৭টি কারখানা বন্ধ হয়ে চাকরি হারান ৮ হাজার ৯২০ জন শ্রমিক। ২০২৪ সালে বন্ধ হয় আরও ৬১টি পোশাক কারখানা, যাতে কর্মহীন হন ৩৯ হাজার ৪৭০ জন।তবে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে ২০২৫ সালে।

ওই এক বছরেই বন্ধ হয়ে যায় ১৬৮টি কারখানা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৭৫ শতাংশ বেশি। এসব কারখানার ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ হারান। এছাড়া চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত আরও ৩১টি কারখানা বন্ধ হয়ে ১৬ হাজার ৭০০ জন শ্রমিক চাকরিচ্যুত হয়েছেন। অবশ্য এই সময়ে ৪০ জন উদ্যোক্তা

নতুন কারখানা চালু করেছেন।পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিনে দিনে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর আকারও বড় হচ্ছে। ২০২৩ সালে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোতে গড়ে ৩৩০ জন করে শ্রমিক কাজ করতেন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোতে গড়ে প্রায় ৬৫০ জন করে শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়া, ব্যাংকঋণের জটিলতা এবং জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, যেসব কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে কিন্তু সাময়িক আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়েছে, সেগুলোকে পুনর্অর্থায়নের আওতায় আনা দরকার। একই সঙ্গে ব্যবসার সার্বিক ব্যয় কমানো এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, পোশাক খাতের এই মন্দা দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি ব্যাংক খাত ও সামগ্রিক বিনিয়োগে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যকর নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com