বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে কৃত্রিম তন্তু ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তরে বড় ধরনের সুযোগ দেখছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ লক্ষ্যে স্বয়ংক্রিয় সেলাই যন্ত্রপাতি, ফাংশনাল ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং গার্মেন্টস এক্সেসরিজ খাতে বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কোরিয়া ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সির (কোটরা) ঢাকা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক লি সুং-হুন (ড্যানিয়েল লি) এ কথা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ পোশাক খাত থেকে এলেও এ শিল্প এখনো প্রধানত প্রথাগত প্রাকৃতিক তন্তুর ওপর নির্ভরশীল। ফলে এখানে গড় মূল্যসংযোজনের হার প্রায় ৩০ শতাংশ। বিশ্ববাজারে পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে কৃত্রিম তন্তু (এমএমএফ) এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।

কোটরার এই কর্মকর্তা জানান, পোশাক শিল্পের আধুনিকায়নে প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে— পণ্যের মানোন্নয়ন, উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বয়ংক্রিয়করণ এবং উদীয়মান আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড বজায় রাখা। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ‘ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট’ (ডিপিপি) ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতে বাংলাদেশি কারখানাসমূহকে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সহায়তা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট ম্যানুফ্যাকচারিং বিনিয়োগের প্রায় ৭০ শতাংশই পোশাক খাতে নিয়োজিত। তৈরি পোশাকের বাইরেও ওষুধ শিল্প (ক্যানসারের ওষুধ, এপিআই ও ভ্যাকসিন), প্রসাধন সামগ্রী (কে-বিউটি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আইসিটি এবং স্মার্ট অবকাঠামো খাতে নতুন কোরিয়ান বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে লি সুং-হুন উল্লেখ করেন।

তিনি মনে করেন, প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) বাস্তবায়ন ও এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে নীতিগত ধারাবাহিকতা রক্ষা, সনদ প্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্জিত মুনাফা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নিয়ম সহজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com