নোয়াখালী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে নতুন শিক্ষার্থীদের আগমনে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ক্যাম্পাস। সোমবার (১৩ জুলাই) ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে আয়োজিত নবীনবরণ-২০২৬ অনুষ্ঠানটি দিনভর আনন্দ, প্রত্যাশা ও অংশগ্রহণের এক উজ্জ্বল আয়োজনে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ক্লিফটন গ্রুপের জোনাল অ্যাডমিন প্রধান মেজর (অব.) এম. এ. সিদ্দিক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন আরবিএফ সোর্সিং-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রেটেক্স ব্লু-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নোয়াখালী অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রনি। আরও উপস্থিত ছিলেন ক্লোভার কালেকশনস লিমিটেডের মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার শৈলেন চন্দ্র সাহা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আব্দুর রকিব।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুধু একাডেমিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। নবীনদের এসব গুণে সমৃদ্ধ হয়ে দেশের টেক্সটাইল খাতের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আব্দুর রকিব বলেন, শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার সমন্বয়েই একজন প্রকৃত প্রকৌশলী তৈরি হয়। তিনি কলেজের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে এবং নিজেদের যোগ্যতা ও সততার মাধ্যমে দেশের টেক্সটাইল শিল্পে অবদান রাখার আহ্বান জানান।নবীনবরণ উপলক্ষে গত দুই সপ্তাহ ধরে ক্যাম্পাসজুড়ে চলে প্রস্তুতি। মঞ্চ নির্মাণ, ক্যাম্পাস সজ্জা, অতিথি আপ্যায়ন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়াসহ সার্বিক আয়োজন সম্পন্ন করেন আয়োজক ব্যাচ ‘পরিমিতিক-১৫’ ও স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীরা।আয়োজকদের ভাষ্য, নবীনদের জন্য স্মরণীয় একটি দিন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ সেই প্রচেষ্টাকে সফল করেছে।
দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতার পর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে কলেজের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি সংগীত পরিবেশন করে জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্ট অফ হেভেন ও সিগনেচার অফ ডার্ক । সন্ধ্যা পর্যন্ত গান, উচ্ছ্বাস ও মিলনমেলায় মুখর ছিল পুরো ক্যাম্পাস।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, নবীনবরণ-২০২৬ নতুন শিক্ষার্থীদের কলেজজীবনের আত্মবিশ্বাসী সূচনা এবং সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

