দীর্ঘ ২৯ বছর বন্ধ থাকার পর নীলফামারীর সদর উপজেলায় অবস্থিত দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এবার মিলটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় নয়, প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে বেসরকারি অংশীদারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকার ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্ট বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ‘ডিজাইন, ফাইন্যান্স, অপারেট, মেইনটেইন অ্যান্ড ট্রান্সফার’ পদ্ধতিতে মিলটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি জমি ব্যবহারের বিপরীতে এককালীন ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা দেবে। এছাড়া তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড শেষে প্রতি মাসে প্রায় ১৩ লাখ টাকা চুক্তি ফি হিসেবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনকে (বিটিএমসি) পরিশোধ করবে। উন্নয়ন ফি হিসেবে পিপিপি কর্তৃপক্ষকে ৭৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথাও রয়েছে।
বিটিএমসি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির ২৫টি মিলের মধ্যে ১৬টি মিল পিপিপি পদ্ধতিতে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে চারটি মিল বেসরকারি অংশীদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৩৭ দশমিক ৮৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে চালু ছিল। পরে মিলটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
মিলটি পুনরায় চালুর জন্য ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেয়। পরে দরপত্র আহ্বান করা হলে একটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দেয় এবং কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নে তা গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়।
চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে ৩০ বছরের জন্য চুক্তি কার্যকর হবে। এ প্রকল্পে সরকারের পক্ষ থেকে জমি ছাড়া অন্য কোনো বিনিয়োগ থাকবে না। বেসরকারি অংশীদারকে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টিও দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পিপিপি পদ্ধতিতে চালু হলে দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গ্রিন ফ্যাক্টরিতে রূপান্তর করা হবে। এতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মিলটি পুনরায় চালু হলে উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও জাতীয় শিল্পখাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

