পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের বেতন–বোনাস পরিশোধ নিয়ে চাপ বাড়ছে। খাতটির বকেয়া প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করা হলেও এখনও অনেক কারখানায় শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ বাকি রয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের আগে বেতন ও বোনাসের দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলনে নামতে দেখা গেছে। গত ৯ মার্চ ময়মনসিংহের ভালুকায় রাসেল এপিয়ারেল লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। একইভাবে গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার গাবতলী এলাকায় সেঞ্চুরি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন, ওভারটাইম মজুরি ও বোনাসের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন।
নিট পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন BKMEA–এর তথ্যমতে, তাদের ৮৩২টি সচল কারখানার প্রায় অর্ধেকই এক মাসের বেতন দিতে ব্যাংকঋণ নিয়েছে। এখনও ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কারখানা শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে পারেনি এবং অর্ধেকেরও কম কারখানা ঈদ বোনাস দিয়েছে।
এ বিষয়ে মোঃ হাতেম বলেন, বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিয়ে এখন পর্যন্ত বড় কোনো জটিলতা তৈরি হয়নি। যদিও কিছু কারখানা ব্যাংকঋণের আবেদন করেও জটিলতার কারণে তা পায়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অধিকাংশ কারখানা বৃহস্পতিবারের মধ্যেই শ্রমিকদের বেতন–বোনাস পরিশোধ করে ছুটি ঘোষণা করবে।
অন্যদিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এর সদস্য সচল কারখানা রয়েছে ২ হাজার ১২৭টি। সংগঠনটির তথ্যমতে, গতকাল পর্যন্ত ২ হাজার ৪৬টি কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ এখনও ৮১টি কারখানায় বেতন বাকি রয়েছে।
এ ছাড়া ঈদ বোনাস দিয়েছে ১ হাজার ৮৮০টি কারখানা। জানুয়ারি মাসের বেতন এখনও বাকি আছে ৫টি কারখানায় এবং চলতি মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম দিয়েছে ৯টি কারখানা। বেতন–ভাতা পরিশোধে ঋণ নিতে ৩৮৭টি কারখানা বিজিএমইএ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়েছে। সংগঠনটির কর্মকর্তাদের মতে, এর বাইরে আরও ২০০ থেকে ৩০০ কারখানা ব্যাংকঋণ নিয়েছে।
এ বিষয়ে মাহমুদ হাসান খান বলেন, প্রতি মাসেই কিছু নন–কমপ্লায়েন্ট কারখানা সময়মতো বেতন দিতে ব্যর্থ হয় এবং এবারও কিছু ক্ষেত্রে এমন প্রবণতা দেখা গেছে। তবে অধিকাংশ কারখানা বেতন পরিশোধ করেছে এবং বাকি কারখানাগুলো আগামী তিন দিনের মধ্যে বেতন দিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে আজ সোমবার ১৫ শতাংশ, মঙ্গলবার ৩৫ শতাংশ, বুধবার ৪৫ শতাংশ এবং বৃহস্পতিবার বাকি ৫ শতাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, প্রতি বছরই ঈদের আগে বেতন–ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বাবুল আখতার বলেন, কিছু মালিক ইচ্ছাকৃতভাবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বেতন–ভাতা পরিশোধ বিলম্বিত করেন, ফলে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তিনি মনে করেন, সরকার কার্যকর নজরদারি জোরদার করলে এমন পরিস্থিতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

