Advertisement

দেশে বন্ধ হয়ে থাকা শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি স্বল্পমেয়াদি রিফাইন্যান্স স্কিম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে পরে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংকগুলো সরকারের কাছে ক্রেডিট গ্যারান্টি চেয়েছে। কারণ, নতুন করে দেওয়া ঋণ ভবিষ্যতে খেলাপিতে পরিণত হলে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার নিশ্চয়তা তারা চায়।

জানা গেছে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য সামনে রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বন্ধ কারখানাগুলো আবার চালু হলে উৎপাদন বাড়বে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে। বৈঠকে দ্রুত ও কার্যকর অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে এই তহবিলের অর্থ কোথা থেকে আসবে—সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক নাকি বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী—তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

কারখানাগুলোর অবস্থা বিবেচনায় তিন ধরনের অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেসব কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ ঠিক আছে কিন্তু মূলধনের অভাবে উৎপাদন কমে গেছে, তাদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে। যেসব কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা যন্ত্রপাতি নষ্ট, তাদের জন্য থাকবে মধ্যমেয়াদি সহায়তা। আর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এবং নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন এমন কারখানার জন্য থাকবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন।

ব্যাংকগুলো ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা, উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি জামানত এবং কারখানার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে পরামর্শক নিয়োগের সুযোগ চেয়েছে। পাশাপাশি তারা বলেছে, আগের বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ এখনো পুরোপুরি আদায় হয়নি, ফলে নতুন করে ঝুঁকি নিতে তারা সতর্ক।

এদিকে, বন্ধ কারখানার তালিকা সংগ্রহ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোন কারণে কারখানাগুলো বন্ধ হয়েছে তা বিশ্লেষণ করে সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী এক মাসের মধ্যেই এ উদ্যোগের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com