দেশের তৈরি পোশাক খাতে চলমান তীব্র গ্যাসসংকটের কারণে কারখানাগুলোতে পণ্য উৎপাদন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই মন্দায় নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বড় পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বাংলাদেশে আসা রপ্তানি আদেশ অন্য দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিজিএমইএ সভাপতি জানান, সরকার আশ্বাস দিয়েছে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে, যেন উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন। তবে দুই বছরের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা না করে সংগঠনটি প্রতি মাসেই গ্যাস পরিস্থিতির উন্নয়ন ও এর অগ্রগতি তদারকি করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, গ্যাস না থাকায় আর্থিক ক্ষতি তো হচ্ছেই, তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা বজায় রাখা। সে উদ্দেশ্যেই বায়ার্স ফোরামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে, যেখানে শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক ক্রেতারা সশরীরে ও ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

পোশাক রপ্তানিকারকদের সূত্রে জানা যায়, বিদেশি বায়াররা প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করে শিপমেন্ট ঠিক সময়ে সম্ভব হবে কি না তা জানার চেষ্টা করছেন। বার্ষিক প্রায় ৩৫ কোটি ডলার পোশাক রপ্তানি করা স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, অধিকাংশ বড় ক্রেতাই বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কেবল আশ্বাসে কাজ হচ্ছে না, ক্রেতারা নিজেদের মতো করে কারখানাগুলোর জেনারেটর ব্যবহার ও দৈনন্দিন উৎপাদন তথ্য সংগ্রহ করছেন। কমপ্লায়েন্স টিমগুলো সরাসরি কারখানায় এসে বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে পণ্য নেওয়া আন্তর্জাতিক ক্রেতার সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। এইচঅ্যান্ডএম, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার, ইন্ডিটেক্স, প্রাইমার্ক, সিঅ্যান্ডএ, লিডল, কিক, ম্যাঙ্গো, নেক্সট, এলপিপি, মাটালান, ওয়ালমার্ট, গ্যাপ, টার্গেট, পিভিএইচ, লেভি স্ট্রস, ভিএফ কর্পোরেশন, নাইকি, আন্ডার আর্মার ও আমেরিকান ঈগল আউটফিটার্সের মতো বৈশ্বিক নামী ব্র্যান্ডগুলো এখান থেকে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক সংগ্রহ করে।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com